ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ পশুর হাট নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ পশুর হাট নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজারের পশুর হাট পরিচালনা, বাজার ইজারা এবং রেলওয়ের জমি ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই প্রকাশ্য টান টান উত্তেজনা রূপ নিয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্থানীয় বিএন‌পির ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কাও করছেন জেলা বিএন‌পির নেতাকমীরা।

সম্প্রতি রেলওয়ের জমিতে পশুর হাট বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ঝড় শুরু হইছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশুর হাটের ইজারাদার হিফজুল বারি শিমুলের বক্তব্যের পাল্টা অবস্থান তুলে ধরে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার একদল বাসিন্দা ও জেলা,উপ‌জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ পশুর হাটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সা‌বেক ছাত্রদল নেতা ও গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দ গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হক। এতে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের বিরুদ্ধে বাজারের জায়গা দখল, সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব প্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়।

বক্তারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বকুলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, বর্তমানে গরুর হাট পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ভাড়া নিয়ে পশুর হাট বসানো হচ্ছে।

২০২৫ ও ২০২৬ সালে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার প্রায় ৬৫ জনকে অংশীদার করে জমি ভাড়া নিয়ে হাট পরিচালনা করছেন বিএনপির পৌর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইজারাদার হিফজুল বারি শিমুল।

ইজারাদার শিমুলের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাজার ও পশুর হাট পরিচালনা করছেন। এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান বকুলের কাছ থেকে রেলওয়ের লিজকৃত জমি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার ওই জমির জন্য বেশি ভাড়া দাবি করায় তিনি জমিটি নেননি। এরপর থেকেই বকুলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন শিমুল।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, অতীতে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের বর্তমান তরকারি হাট এলাকায় গরুর হাট বসত। পরে বিভিন্ন সময়ে হাটের স্থান পরিবর্তন হয়ে রেলওয়ের লিজকৃত জমিও ব্যবহৃত হয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল বাজার ও পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, গত বছর শিমুল বাজার ইজারা নেওয়ার পর গরুর হাট পরিচালনার জন্য বকুলের নিয়ন্ত্রণাধীন জমি ব্যবহার করতে হয়।পরবর্তীতে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে সেখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলে হাট পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। বক্তাদের দাবি, বাজারের কার্যক্রম ও পরিবেশদূষণের কারণে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ভবনের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়। ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের দুই অভিভাবক পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন বলেও তারা দাবি করেন।

এদিকে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের পক্ষের লোকজন। তাদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিরোধ ও বাজার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে এলাকাবাসী পশুর হাট ও রেলওয়ের জমি ব্যবহারের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা ও বৈধতা নির্ধারণ এবং বাজার ইজারা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা বিএন‌পির নেতাকমীরা ।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা ও শিক্ষক ফজলুল করিম বকুল, ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন, বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী ছাদিকুর রহমান, আশরাফুর রহমান এনাম, জেলা ছাত্রদল নেতা আমীন উদ্দিন, ব্যবসায়ী লায়েক আহমদ, বিএনপি নেতা ও সংবাদকর্মী নজির আহমদ, দক্ষিণ খুরমা ইউপি বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমদ, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রদল নেতা ফয়ছল আহমদ সুমন, বিএনপি নেতা ইমাম উদ্দিন, কালারুকা ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুব আহমদ, আবদুল মমিনসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে উভয় পক্ষের উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে রেলওয়ের জমি ব্যবহার, পশুর হাটের বৈধতা, বাজার ইজারা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট