|
প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছিল ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু চলমান এই উন্নয়ন কাজে হঠাৎ ধীরগতি ও বিভিন্ন অংশে কাজ বন্ধ থাকায় এখন উন্নয়নের সুফলের বদলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের। বিশেষ করে নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা বালু ও মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর যানবাহনের চাকার সঙ্গে বাতাসে উড়ছে ধুলা। এতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কের আশপাশের এলাকায় ধুলার আস্তরণ পড়ছে। উপজেলা পরিষদ ভবন, এফআইবিডি অফিস, শান্তিগেঞ্জ পয়েন্ট সহ আশপাশের দোকানপাট, বসত বাড়ি ও পথচারীদের পোশাক-পরিচ্ছদে ধুলা জমছে। অনেক সময় যানবাহন চলাচলের সময় সামনের রাস্তা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং কাজ পেয়েছে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০২৫ সালের জুনে চুক্তি সম্পাদনের পর ওই বছরের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেন প্রতিষ্ঠিানটি এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কাজ চলার কথা, কিন্তু মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। মে মাসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ ঢালাই ও মাটির কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। একই সময়ে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, গাছ কাটার বিলম্ব ও বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি হওয়ার কথাও উঠে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে ফোর লেনের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি খনন, বালু ফেলা ও নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি কাজ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়ক দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী যানবাহন ও ছোট যান চলাচলের সময় সড়কজুড়ে ধুলার মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ীতে চলাচলকারী যাত্রী, পথচারী ও সড়কের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতকারী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা ধুলা বালিতে আরো বেশী করে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু-মাটি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
শান্তিগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, দিনের বড় একটি সময় দোকানের সামনে ধুলাবালি জমে থাকে। যানবাহন অতিক্রম করলেই ধুলার মেঘ তৈরি হয়। দোকানের মালামাল পরিষ্কার করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজেরাও সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, “উন্নয়ন কাজ আমরা চাই। কিন্তু কাজ বন্ধ রেখে রাস্তার বালু-মাটি এভাবে ফেলে রাখলে আমাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্তত নিয়মিত পানি ছিটানো হলে ধুলার সমস্যা অনেকটা কম হতো।
সিএসনিজ গাড়ী চালক রিপন মিয়া জানান, গাড়ি গেলেই ধুলায় চারপাশ ঢেকে যায়। সিএনজি গাড়ী, মোটরসাইকেল চালানো ও পথচারী হেঁটে চলা দুটোই কষ্টকর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষকে নিয়ে চলাচলের সময় বেশি সমস্যা হয়। গাড়ি চলাচলের সময় ধুলায় পুরো রাস্তা অন্ধকার হয়ে যায়। চোখ-মুখ ঢেকে চলতে হয়। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা দরকার।
এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর স্থানীয় প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান জানান যে, আমাদের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষে হয়েছে। এখন রাস্তা সম্প্রসারণে ভিট বালি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। আশা করছি ভিট বালি পেয়ে আমাদের কাজ পুরোদেমে শুরু হবে। রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য ট্রাক রয়েছে। নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য বলে দেওয়া আছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ফোর লেন এর কাজ পরোদমে আবারো শুরু হবে। ধুলা বালি যাতে বাতাসে না উড়ে। তাই টিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য বলা হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D