|
প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৯ জুলাই প্রার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ দেড় মাস পর গত ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার, সদস্য-সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ইউসুফ মিঞা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সামছুন নাহার পারভীন এবং উপজেলা আইসিটি অফিসার মোঃ রকিবুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমেই পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিকেও সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে বলে ফেসবুকে প্রকাশ্য অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরীফ মোয়াজ নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দীপ তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “আপনি কীভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার সিলেক্ট করলেন? কাদের নির্দেশে আপনি এটা করার সাহস পেলেন, তার চেহারা কমলগঞ্জের সাধারণ জনগণ সবাই চেনে।”
তথ্য সংগ্রহকারী পদে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শমশেরনগর ইউনিয়নের দেওছড়া চা বাগানের বাসিন্দা অমৃত রবিদাস, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা স্পষ্টত মেধাবী পরীক্ষার্থীর সঙ্গে তামাশা। আমি এর আগে জনশুমারী, গৃহগণনা ও অর্থনৈতিক শুমারীতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী পদে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমাকে আশ্বাসও দিয়েছিল ভাইভা বোর্ড। কিন্তু ফলাফল সিটে আমাকে কেন অপেক্ষমান রাখা হয়েছে? আমরা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে ফলাফল পুনর্বিবেচনা চাই।
পূর্বে বিভিন্ন জাতীয় জরিপে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরাও এই ফলাফলে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। এম এ জুলফিকার আলী নামে এক প্রার্থী ফেইসবুক পোস্টের কমেন্টে লেখেন, ৩-৪টি অভিজ্ঞতা সনদ থাকা সত্তে¡ও বাদ পরলাম, আদমশুমারি, খানাশুমারি, জনশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারিতে গণনাকারী ও সুপারভাইজার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সনদ থাকা সত্তে¡ও আমাকে মূল তালিকায় রাখা হয়নি, রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়।
অন্যান্য ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা বলেন, মেধা ও দক্ষতার তোয়াক্কা না করে অদক্ষ এবং পূর্ব কোনো জরিপের অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ি চা বাগানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরণের বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই পুরো শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিভিত্তিক কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D