|
প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২৬
গত ২৭ জুলাই ফুটবল খোলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সিলেট খুন হয় কিশোর রিফাত আহমদ (১৫)। ওই দিন রাত ১০টার দিকে নগরীর কাজিরবাজার সেতুর ওপর একদল কিশোরদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় সে। নিহত রিফাত, নগরীর খাসদবির দারুস সালাম বন্ধন জি-৩ বাসার মিফতাহ উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় দ্বীপ শিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
কেবল এই একটি ঘটনা নয়, সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। মাদক সেবন, চুরি, ছিনতাই, মারামারি, নারীদের হয়রানি, এমনকি হত্যাকান্ডের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা।
সম্প্রতি সারাদেশে সক্রিয় কিশোর গ্যাং নিয়ে সম্প্রতি তালিকা করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। সে তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বাদে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় ২২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ৫৫০। এমধ্যে সিলেটে সক্রিয় রয়েছে সিলেটে ১৫ টি কিশোর গ্যাং।
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরে আছে ৯৮টি, খুলনা মহানগরে ৭, রাজশাহীতে ১৩, সিলেটে ১৫ ও গাজীপুর মহানগরে ১৩টি গ্রুপ রয়েছে। অন্য মহানগর ও বিভিন্ন জেলা শহরেও বেশ কিছু গ্রুপ সক্রিয়। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রয়েছে নোয়াখালীতে– ২৫টি। আর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫৯টি গ্রুপ রয়েছে।
সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাদন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গত ২২ আগস্ট শনিবার দুপুরে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।’
এরআগে গত ৮ মার্চ সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশঙ্খলা কমিটির সভায় সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসীকল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্খান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে ছিনতাই প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এদের ব্যাপারে কেউ তদবির করলে তাদেরও আটক করতে হবে।
পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো– অভিভাবকদের উদাসীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মূল্যবোধের অভাব, অসৎ সঙ্গ, কিশোরদের মধ্যে বাহাদুরি দেখানোর প্রবণতা, সুস্থ বিনোদনের অভাব এবং মানসিক হতাশা।
পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এই সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যরা চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘হিরোইজম’ দেখানোর প্রবণতা কাজ করে। এর সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় তারা সহজেই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।
খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। বর্তমানে অভিযান চালিয়ে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, মামলা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতার কারণে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে কেউ যেন এসব কিশোরকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ কিংবা কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা না করেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে কিশোররা বিপথে না যায়। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D