সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬

সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

সিলেটের একটি চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান ও আড্ডার ছলে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় চারশো খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।

সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন নিজে উপস্থিত থেকে এই খাতাগুলো জব্দ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

অনিয়মে জড়িত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন ছাত্র।

জানা যায় খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হলে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, উনি (ইকবাল হোসেন সোহান) আমাদের পরীক্ষক। পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো বাসায় বসে দেখার কথা ছিলো। কিন্তু তিনি পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করি।তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ একটি জিডি করা হয়েছে। উত্তরপত্রগুলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপেরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শনিবারই নয়, আগের রাতেও একই স্থানে কয়েকজন মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলেছে। এমনকি পরীক্ষকের বাইরে অন্যদের হাতেও খাতা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তাঁর সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধু উত্তরপত্র দেখছিলেন। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে সিগারেট ও চা পানের ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার উত্তরপত্র কীভাবে নিয়োজিত পরীক্ষকের বাইরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে প্রভাষক ইকবাল বলেন, তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

এ সময় উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনও খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলাম।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট