১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাতের বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সেটিংস পরিবর্তন করে এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে পারবেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, রাতের কারফিউর পাশাপাশি অটো-প্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো আসক্তিকর ফিচারগুলোও ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখা হবে। এতে কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের মান উন্নত হবে, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে দেশটির শিশু নিরাপত্তা কর্মীরা সরকারের এই পরিকল্পনাকে যথেষ্ট কঠোর বলে মনে করছেন না। ২০২২ সালে অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুলস সুইনির মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসা এলেন রুম বলেন, কিশোররা যেহেতু নিজেই সেটিংস পরিবর্তন করে কারফিউ তুলে দিতে পারবে, তাই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, এটা এমন যেন ১৭ বছরের একজনের হাতে মদের বোতল দিয়ে সেটিকে শুধু একটু দূরে সরিয়ে রাখা হলো। সে তো আবার হাত বাড়িয়ে সেটি নিয়ে নিতে পারবে।
অবশ্য যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেছেন, রাতের কারফিউ এবং অটো-প্লে সীমিত করার মতো পদক্ষেপের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর দেশগুলোর একটি হয়ে উঠবে। প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডালও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি তরুণদের সুস্থ ও সফল প্রাপ্তবয়স্ক জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট সরকারের এই পরিকল্পনাকে এলোমেলো ও অসংগত বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট নিরাপদভাবে ব্যবহারের জন্যও নতুন বিধিমালা আনা হবে। এর অধীনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য এআই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক বিরতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রস্তাবগুলো পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে চায় এবং আগামী বসন্তে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এই নতুন নিয়মগুলোও কার্যকর করা হবে।
এদিকে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা মনে করছে, শুধু মধ্যরাতের কারফিউ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। মলি রোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি বারোজ বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার জন্য আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যদিকে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন সতর্ক করে বলেছেন, গভীর রাতে কোনো শিশু সাহায্য বা মানসিক সহায়তার জন্য বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে এই কারফিউ উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, হুইসেলব্লোয়ার, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষায় ভিপিএনের বৈধ ব্যবহার থাকায় আপাতত এর ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। দেশটির সরকারি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০০ কিশোর-কিশোরীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে চালানো এই রাতের সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ তাদের ঘুমের মান উন্নত করতে ইতিবাচক সাহায্য করেছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D