জব্দ করার ২ দিন পরই উধাও কোটি টাকার পাথর

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

জব্দ করার ২ দিন পরই উধাও কোটি টাকার পাথর

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) পরিচালিত অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত পাথর উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়েই আবারও নতুন করে পাথর জব্দ করা হচ্ছে। বিএমডির দুটি অভিযানে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হলেও এর মধ্যে শাহ আরেফিন টিলায় জব্দ করা প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর দুই দিনের মাথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান গত ৯ এপ্রিল শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করেন। পরে পাথরগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় রাখা হয়। তবে জব্দের দুই দিনের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা পাথরগুলো সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চুরি হওয়া পাথরের একটি অংশ চিকাডহর গ্রামের একটি বাড়ির আশপাশে রাখা হয়েছে এবং বাকি অংশ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী বলেন, পাথর চুরির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে, শাহ আরেফিন টিলার জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রির জন্য খনিজ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে পাড়ুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নিলামে পাথরগুলো ক্রয় করেন। তিনি জানান, ভ্যাটসহ প্রতি ঘনফুট ৯৭ থেকে ১০০ টাকা দরে পাথর কিনলেও এখনো সেগুলো বুঝে পাননি। এ কারণে মোট অর্থের বিপরীতে তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর নিলামে কিনেছি। কিন্তু এরই মধ্যে সব পাথর চুরি হয়ে গেছে। বিএমডির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। পাথর বুঝে না পাওয়ায় বাকি অর্থও জমা দিতে পারছি না।

এরই মধ্যে গত ১৩ জুলাই উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের উৎমা এলাকায় আবারও অভিযান চালিয়ে ৯৪ হাজার ৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান। জব্দকৃত পাথর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে একই পাথর বিজিবিও জব্দ করেছিল, তবে তখন তা নিলামে বিক্রি করা হয়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান বলেন, অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর জব্দ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। আমি অভিযান পরিচালনা ও পাথর জব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তী ব্যবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, বিএমডির পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, নিলামে বিক্রি হওয়া পাথর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সব তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। জব্দ পাথর চুরির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। স্থানীয় প্রশাসনের পাথরগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট