ছাতকে গ্রামগঞ্জে বাড়ছে চোরদের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে উপজেলাবাসী

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

ছাতকে গ্রামগঞ্জে বাড়ছে চোরদের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে উপজেলাবাসী

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় চুরি কিংবা চুরির চেষ্টা হচ্ছে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গরু, ছাগল, পুকুরের মাছ, টমটম, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রামেই বাসিন্দারা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও পূর্বপাড়া এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে তিনটি বসতঘরের মাটির দেয়াল ও টিন কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। তবে ঘরের লোকজন শব্দ পেয়ে জেগে উঠলে চোরেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের দাবি, গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত রাতের পুলিশি টহল জোরদার, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে চালু করা হলে অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এ ছাড়া স্থানীয়রা প্রত্যেক পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি দেখামাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লে চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ কমে আসবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। চুরির অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে এনে গ্রামাঞ্চলে মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়লে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট