পাকিস্তানে ঘন ঘন ভূমিকম্প, আতংক

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

পাকিস্তানে ঘন ঘন ভূমিকম্প, আতংক

পাকিস্তানে ঘন ঘন ভূমিকম্পে আতংকে সারাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) গভীরে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বালুচিস্তান প্রদেশে।

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তীব্র কম্পনের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) একই এলাকায় দুটি পৃথক ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

আগের ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এতে অন্তত তিনজন আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও আছে। এছাড়া মুসাখেল জেলার কিংরি এলাকায় প্রায় ৭০টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুসাখেলের ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক।

এনএসএমসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কোহলু থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ১৭ কিলোমিটার। এর কম্পন ঝোব, বারখান ও রাখনি এলাকাতে অনুভূত হয়।

এর আগে চলতি মাসে লাহোর ও আশপাশের এলাকাতেও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ভূমিকম্পের ঘটনায় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করায় পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে দেশটি একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ইসলামাবাদ, সোয়াত ও হুনজা অঞ্চলে অনুভূত হয়েছিল। আর ২০০৫ সালে আজাদ কাশ্মীরে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে। তাই এসব এলাকায় আগাম প্রস্তুতি ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তথ্যসূত্র : জিও নিউজ


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট