কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড দ্বিজেন সোমের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এনডিএফ’র শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড দ্বিজেন সোমের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এনডিএফ’র শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী আপোষহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড দ্বিজেন সোম’র ২৩-তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল ৮ টায় চালিবন্দরস্থ উনাঁর শেষকৃত্যস্থলে পুষ্পস্থপবক অর্পণ করে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, শাহপরান থানা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া (সাগর)।

নেতৃবৃন্দ বলেন ১৯৩৭ সালে দোকান কর্মচারি থাকাবস্থায় কমরেড দ্বিজেন সোম ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং অনুধাবন করেন সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব ব্যাতীত জনগণের মুক্তি আসবে না। কমিউনিস্ট পাটির নেতৃত্বে তেভাগা কৃষক আন্দোলন এবং সিলেট অঞ্চলে গড়ে ওঠা নানকার প্রথা বিরোধী কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের সাথে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ ৬৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ৪০ বছর তাঁকে আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মার্কসবাদ লেনিনবাদ এর লাল পতাকাকে সমুন্নত রাখেন এবং সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেন। আমাদের মতো নয়াউপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী দেশে জাতীয় জীবনের দূর্দশা ও সংকটের মূল কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের নির্মম শোষণ নির্যাতন। আর এই শোষণ নির্যাতন থেকে মুক্তির একমাত্র পথ শোষণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উচ্ছেদ এবং যা শ্রমিক কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসতে পারে। এই ছিল তাঁর প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সমগ্র জীবন তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে লড়ে গেছেন তাঁর আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদই মানব মুক্তির একমাত্র পথ- এই ছিল তাঁর দর্শন।

নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, বিশ^ব্যাপী সা¤্রাজ্যবাদ তার অতি উৎপাদন সংকট থেকে মুক্তির পথ হিসেবে যুদ্ধকে সামনে আনছে। সা¤্রাজ্যবাদীরা পুঁজি ও শক্তি অনুপাতে বিশ্বকে ভাগ-ভাটোয়ারার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এ দেশকে নিয়ে আন্তঃসা¤্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্ধিতা তীব্রতর হয়ে আগ্রাসী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত-চক্রান্ত বেড়েই চলছে। সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলো মরিয়া বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। দেশে দেশে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করছে, তার বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে বিশ্ববিপ্লব অগ্রসর করা এবং সা¤্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজির নির্মম শোষণ লুণ্ঠনে দেশের শ্রমিক কৃষক জনগণের উপর যে খড়গহস্থ নেমে এসেছে তার বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান এনডিএফ সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট