সিলেটের স্কুলছাত্রী ৩ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার, গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬

সিলেটের স্কুলছাত্রী ৩ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার, গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

সিলেটের মোগলাবাজার থেকে অপহৃত নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ঘটনার দীর্ঘদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। একই সাথে অপহরণের ঘটনায় জড়িত একমাত্র অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার চর ইসলামপুর এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৯ ও সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল।

​র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২০২৩ সালের ২১ মে সকালে প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলে গিয়ে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। নিখোঁজের পর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

​পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার লোকমুখে জানতে পারে, ওই ছাত্রীর গৃহশিক্ষক অন্তর খাঁন তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে। মেয়েকে ধর্ষণ, পাচার কিংবা হত্যা করে লাশ গুম করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই র‍্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

​এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাব-৯ (সদর কোম্পানী, সিলেট) এবং সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) বিজয়নগরের চর ইসলামপুর এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংস্থার সংশোধিত/২০২৫) এর ৭ ধারার মূলে রুজুকৃত মামলার একমাত্র আসামি অন্তর খাঁনকে (২৫) গ্রেফতার এবং অপহৃত ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অন্তর খাঁন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার এড়ালিয়া পাড়া গ্রামের আজাদ খাঁনের ছেলে।

​র‍্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামি এবং উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট মোগলাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব-৯ এর অতিঃ পুলিশ সুপার মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট