শাবিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত, ৫শ শিক্ষার্থী পাবেন ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

শাবিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত, ৫শ শিক্ষার্থী পাবেন ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ শিক্ষায় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং কলা মানবিক অনুষদে ৫শ বাংলাদেশিকে উচ্চ শিক্ষায় ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ দিচ্ছে দেশটি। উচ্চ শিক্ষায় এমন অনন্য উদ্যোগ বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ভাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাকিস্তানে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

পাকিস্তান উচ্চ শিক্ষা কমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডোরের আওতায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় শিক্ষা মেলা রোববার (১৭ মে) দিনব্যাপী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় পাকিস্তানে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণ শিক্ষার্থীদের বেশ সাড়া মিলেছে। মেলায় পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্কলারশিপ বিষয়ে নানা তথ্য জানতে পারেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় এডুকেশন এক্সপো রোববার (১৭ মে) সকাল সোয়া ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ সোশ্যাল সায়েন্স ভবনে ফিতা কেটে যৌথভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী| এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন, শাবিপ্রবি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ˆসয়দ ছলিম মো. আব্দুল কাদির, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আফম জাকারিয়া, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডোরের আওতায় বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চ শিক্ষার হাত বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। এই করিডোরের আওতায় প্রথম ধাপে গেল বছরের অক্টোবরে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাকিস্তানে গেছেন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ১ম এডুকেশন এক্সপোতে সারাদেশ থেকে পাকিস্তানে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন ৬শ শিক্ষার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৪ জন শিক্ষার্থীকে ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ দেয় পাকিস্তান।

প্রথম ধাপে বাংলাদেশের ৭৪ জন শিক্ষার্থী এরই মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শুরু করেছেন। তারা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও উদীয়মান প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। এসব বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের পূর্ণ টিউশন ফি, আবাসন সুবিধা, মাসিক ভাতা, এককালীন সহায়তা ও যাতায়াত ব্যয় বহন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাবিপ্রবির এই মেলায় স্টল দিয়েছে পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, বাহরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ, পাক-অস্ট্রিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন করাচি, ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার ফয়সালাবাদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব কম্পিউটার এন্ড ইমার্জিং সায়েন্স, ইকরা ইউনিভার্সিটি করাচি, এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইনি&জনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি করাচি, ডিও ডব্লিউ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজ ইসলামাবাদ, ইউনিভার্সিটি অব পেশওয়ার, ইউনিভার্সিটি অব লাহোর, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, কমস্যাটস ইউনিভার্সিটি ইসলামাবাদ, লিয়াকত ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল এন্ড হেলথ সায়েন্স, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ইনি & জনিয়ারিং এন্ড এপ্লাইড সায়েন্সস, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ইসলামাবাদ, ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সস ও লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড সায়েন্সেস (লুমস)|

রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে ভিড় জমান স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী এই এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম, প্রোগ্রাম, বৃত্তির সুযোগ এবং গবেষণা সম্পর্কে স্টলের মাধ্যমে উপস্থাপনা করে।

লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড সায়েন্সেস (লুমস) এক্সিকিউটিভ আয়েশা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নন-প্রফিটেবল প্রতিষ্ঠান| উচ্চ শিক্ষায় পাকিস্তানের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।

পাকিস্তানে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী মারজিয়া সুলতানা পিংকি বলেন, পাকিস্তান ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ দিয়ে সত্যিকারের বন্ধুত্বের পরিচয় দিচ্ছে। আমি স্নাতকোত্তরের জন্য আবেদন করবো। পাকিস্তান উচ্চ শিক্ষা কমিশন যদি উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আমাকে নির্বাচিত করবে। সুযোগ পেলে আমি সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স করতে চাই।

মতবিনিময় সভায় শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের চমৎকার প্রাতিষ্ঠানিক কোলাবরেশন বা যৌথ সহযোগিতা রয়েছে। আমাদের অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকরা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমাদের এখানে অত্যন্ত উচ্চমানের গবেষক রয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে গত বছরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে আমাদের গবেষকদের ৫৫০টি গবেষণা প্রবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশিত হয়েছে।

শাবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি, চলতি বছরে এই বৃত্তির পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। সাম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈশ্বিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট