ফের টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হলেন লুৎফুর রহমান

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২৬

ফের টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হলেন লুৎফুর রহমান

পূর্ব লন্ডনের রাজনৈতিক আকাশে আবারও উচ্চারিত হলো এক পরিচিত নাম লুৎফর রহমান। অভূতপূর্ব জনসমর্থনের জোয়ারে ভেসে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেন টাওয়ার হেমল্যাটসের নির্বাহী মেয়র পদে। এই বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী জয় নয়, এটি জনআস্থা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক শক্তিমত্তার এক অনির্বাণ ঘোষণাপত্র।

জনতার অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও আস্থার দীপ্ত সাক্ষর রেখে তিনি চতুর্থবারের মতো মেয়রের আসনে অধিষ্ঠিত হলেন।

তার বিজয়ের ব্যবধান এতটাই বিস্ময়কর যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই একে বলা হচ্ছে ‘দ্বিগুণ ভোটের মহাজয়’। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলামকে বিপুল ব্যবধানে পেছনে ফেলে লুৎফুর রহমান যেন আরেকবার জানিয়ে দিলেন, মানুষ এখনো তার নেতৃত্বেই খুঁজে পায় আস্থার ঠিকানা।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট ১৯ হাজার ৪৫৪।

হীরা খান পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট। জন বোলার্ড অর্জন করেছেন ৭ হাজার ১৫৩ ভোট। ডমিনিক নোলান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৮ ভোট। জামি আলী পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৬ ভোট।

মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানের ঝুলিতে জমা পড়েছে ২ হাজার ৪২১ ভোট। হুগো পিয়েরে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্যারেন্স ম্যাকগ্রেনেরা পেয়েছেন ৫২৪ ভোট।

এই ফলাফল শুধুই কোনো নগর প্রশাসনের নির্বাচন নয়; এটি বহুজাতিক ব্রিটেনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আত্মমর্যাদার এক সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, সময়ের নানা ঝড়ঝাপটা অতিক্রম করে আজ তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২২ সালের প্রত্যাবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই বিপুল বিজয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী গণরায়ের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফলাফল ঘোষণার পর মুহূর্তেই টাওয়ার হ্যামলেটসজুড়ে নেমে আসে উৎসবের আবহ। আনন্দমিছিল, উচ্ছ্বাস আর বিজয়ের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক। সমর্থকদের চোখেমুখে ছিল গর্বের দীপ্তি—যেন এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়, বরং পুরো প্রবাসী জনপদের আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের জয়গান।

এদিকে কাউন্সিলর পদের ৪৫টি আসনের ভোট গণনা শুরু হয় শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৮টায়। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে পারে দিনের শেষভাগে। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন সেদিকেই নিবদ্ধ। কারণ মেয়র নির্বাচনে যে প্রবল গণজোয়ার দেখা গেছে, তার প্রতিফলন নগর পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট