৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২৬
সিলেটের কানাইঘাটে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৫নং বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রবাসীর চাচা ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়ারপাড় গ্রামের এজমাল ফান্ড, হিসাব ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে স্থানীয় মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রবাসী মিসবাহ উদ্দিনের বাবা জবরুল ইসলাম ও চাচা ফখরুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জবরুল ইসলাম ও ফখরুল ইসলামদের সামাজিকভাবে একঘরে করার ঘোষণা দেয়। তাদের চলাচল, মসজিদে নামাজ আদায় এমনকি শিশুদের মক্তবে যাওয়া নিয়েও বাধা সৃষ্টি করা হয়।
এর জেরে গত ২০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ফখরুল ইসলাম। অভিযোগের পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করে বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে ফখরুল ইসলামের ওপর হামলা চালালে তিনি প্রাণ বাঁচাতে ভাই জবরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালায়। এতে ঘরের নারী-শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত জাবেল আহমদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী জবরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘হামলার সময় তার ছেলের বিদেশ থেকে পাঠানো ২ লাখ টাকা, যা চালের ড্রামে রাখা ছিল, তা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার খোঁজাখুঁজি করা হয়।’
একই ঘটনায় ফখরুল ইসলামকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসা স্থানীয় হাসন মিয়ার বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব বলেন, ‘এলাকার অধিকাংশ মানুষ সহজ-সরল ও স্বল্প আয়ের। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তরা প্রায়ই দুর্বল মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলায় আমাকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। সম্প্রীতি ফেরাতে মসজিদে শিন্নির আয়োজনও করা হয়। কিন্তু কিছু লোক শান্ত এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D