১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬
পারস্য উপসাগরের উত্তর দিকে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের পৃথক প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সির পক্ষ থেকে খারগ দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিশাল বিস্ফোরণের খবর জানানো হলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন দাবি করেছে এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছে।
তিনি জানান, গত রাতে ইরানের খারগ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এবারের হামলায় দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
এর আগে গত ১৩ মার্চও খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা দ্বীপটির নৌ-মাইন সংরক্ষণাগার, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার এবং অন্যান্য বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা মিলিয়ে মোট ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তেলের কূপ এবং বিশেষ করে খারগ দ্বীপ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ৩০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন বাহিনী ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
এই ভয়াবহ হামলার খবর এমন এক সময় সামনে এলো যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে এক চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত না করে তবে দেশটির প্রতিটি বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার ঠিক আগেই খারগ দ্বীপে এই হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই খারগ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতি ও তেল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই দ্বীপটি মূল ভূখণ্ডের উপকূল থেকে কিছুটা দূরে এমন এক গভীর জলসীমায় অবস্থিত যেখানে বিশ্বের বিশালাকার তেলের ট্যাঙ্কারগুলো (ভিএলসিসি) অনায়াসেই ভিড়তে পারে। একেকটি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই একক দ্বীপের টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই দ্বীপে বড় ধরনের কোনো সফল হামলা মানেই হলো ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার এই দ্বীপে হামলার চেষ্টা চালালেও এবারের আক্রমণটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বিধ্বংসী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত শক্তির ওপর ব্যাপক আঘাত হানার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানের অন্তত ১৩ হাজারের বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে ইরানের ১৫৫টিরও বেশি ছোট-বড় জাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি এখন সমুদ্রপথেও ইরানের বাণিজ্যিক ও সামরিক যাতায়াত ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার কৌশলে এগোচ্ছে পেন্টাগন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D