মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক নির্বাহী আদেশে এ ঘোষণা দেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং অনিশ্চয়তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সমন্বয় সাধন করবে।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিদ্যমান আইন কাঠামোর মধ্যেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বহাল থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবে, এমনকি জরুরি ভিত্তিতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগও থাকবে।

এর আগে দেশটির জ্বালানি সচিব শ্যারন গ্যারিন জানান, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ফিলিপাইনের হাতে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট মার্কোস অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পেসোর বিনিময় হার, প্রবাসী আয় এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।

তাদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সূত্র: রয়টার্স


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট