২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে জমে উঠেছে কেনাকাটার উৎসব। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে কেনাকাটা শুরু করছেন। এরপর বড়দের জন্য পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনা হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পছন্দ না হলে আবার নতুন করে খোঁজ শুরু করছেন তারা।
জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের আধুনিক শপিংমলগুলোতে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও বন্দরবাজার এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। বিশেষ করে হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে কিশোর আবির জানায়, ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা শেষ করে এখন জুতা ও প্রসাধনী কেনার পরিকল্পনা করছে সে। তবে দোকানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেনাকাটায় সময় বেশি লাগছে বলে জানায় সে।
হাসান মার্কেটের বিক্রয়কর্মী হাবিব জানান, সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই সিলেটে ঈদের বাজার জমে ওঠে। এবছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। বর্তমানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে। নগরীর বারখলা এলাকার বাসিন্দা সৌরভ বলেন, আগের বাজেটে এবার কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালাগঞ্জ থেকে আসা কামরুল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও এখনো পছন্দসই দামে কাপড় পাননি, তাই দরদাম করছেন।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে এ বছর পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০–৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্রেতার চাপের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদ বাজারেও।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে মুখর সিলেট নগরী হলেও বাড়তি দাম ও যানজট সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D