সুনামগঞ্জের শিমুল বাগানে উৎসবের আমেজ, হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণা

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

সুনামগঞ্জের শিমুল বাগানে উৎসবের আমেজ, হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তঘেঁষা যাদুকাটা নদীর তীর। দিগন্তজোড়া শিমুল ফুলের লাল আভা যেন আকাশের নীলিমার সঙ্গে মিতালি করছে। আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অবগাহন করতে ১৪ ফেব্রুয়ারি জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগানে আছড়ে পড়েছে হাজারো পর্যটকের ঢল। পহেলা ফালগুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবের আমেজ এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের হাজারো গাছে ফুটে থাকা লাল শিমুল যেন এক মায়াবী হাতছানি। পর্যটকদের পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবি, মাথায় ফুলের টায়রাসব মিলিয়ে পুরো বাগান এলাকা পরিণত হয়েছে এক টুকরো উৎসবে। যাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ জলধারা আর ওপাড়ে মেঘালয়ের নীল পাহাড়ের পটভূমিতে শিমুল বাগানের এই রূপ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস। ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক দ¤পতি জানান “শিমুল বাগানের এই রক্তিম আভা দেখার স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। তবে মানুষের ভিড় এত বেশি যে, ভালোমতো ছবি তোলা কিংবা নিরিবিলি সময় কাটানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।” ভিড়ের মাঝেও পর্যটকদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। কাউকে দেখা গেছে ঘোড়ায় চড়ে বাগানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে, আবার কেউ দলবেঁধে মেতেছিলেন আড্ডায় ও ফটোসেশনে।

পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়কে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। আশপাশের হোটেল-মোটেল এবং খাদ্য বিপণিগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। তবে যাতায়াত ব্যবস্থায় কিছুটা ভোগান্তির চিত্রও উঠে এসেছে। পর্যটকের আধিক্যের কারণে নৌ-ঘাটগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সরু সড়কগুলোতে জানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

প্রতি বছর পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তারা মনে করেন, রাস্তাঘাট ও নৌ-ঘাটের আধুনিকায়ন করা গেলে এই শিমুল বাগান হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র।