শান্তিগঞ্জে মারপিট থামাতে গিয়ে শালিসকারী নিহত, আটক ২

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৫

শান্তিগঞ্জে মারপিট থামাতে গিয়ে শালিসকারী নিহত, আটক ২

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একপক্ষের আঘাতে এক শালিসকারী নিহত হয়েছেন। নিহত শালিশকারী রাজন খাঁ (৩৮) সলফ গ্রামের মুন্সী খাঁর পুত্র। ঘটনার পরপরই শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সলফগ্রাম থেকে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) আছরের নামাজের আগ হতে সলফ গ্রামের মসজিদের পাশে সলফ গ্রামের কালাশাহ পক্ষের রাসেম ও মারুফ সহ আরো যুবক ছেলেরা শোর চিৎকার করে ফুটবল খেলতে থাকে। আছরের নামাজের আগে স্থানীয় মুসল্লী বারাম উল্লাহ (৭০) কালা শাহ পক্ষের রাসেম ও মারুফ সহ আরো যুবকদের শোর চিৎকার না করে খেলতে বলেন এবং মাগরিবের নামাজের আগেই খেলা বন্ধ করতে বলেন। এসময় রাসেম ও মারুফ সহ মুসল্লী বারাম উল্লাহের সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়। পরে আশপাশ হতে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের নিবৃত করেন। উক্ত ঘটনার জেরে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মাগরিবের নামাজের পরপর কালা শাহ পক্ষের রাসেম ও মারুফ সহ ৫/৬ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সলফ গ্রামের আব্দুল হান্নানের বসত বাড়ীর সামনে রাস্তায় মুসল্লী বারাম উল্লাহের ভাই হারিছ উল্লাহ (৬৫) ও আফরোজ আলীর ছেলে মনসুর (২৮) কে রাস্তায় পেয়ে আক্রমন করে। হারিছ উল্লাহ ও মনসুরকে বাঁচাতে শালিসকারী রাজন খাঁ এগিয়ে গেলে অভিযুক্তদের মারপিটের আঘাতে রাজন খাঁ মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন। তৎক্ষণিক আশপাশ হতে লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় হারিছ উল্লাহ, মনসুর ও রাজন খাঁকে রাত ৮ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হারিস উল্লাহ ও রাজন খাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে ঐদিন রাত সাড়ে ৯ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজন খাঁ মারা যান। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ নিহত রাজন খাঁর লাশের সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কালাশাহ পক্ষের অভিযুক্ত সলফ গ্রামের মৃত মসুলিম উল্লাহর ছেলে রসিক মিয়া মোড়ল (৪৫) ও দিরাই থানা এলাকার মধুপুর গ্রামের মৃত নুর আলীর ছেলে লিটন মিয়া (৩৬)কে আটক করে। তাদেরকে শনিবার (১৫ নভেম্বর) আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।

শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ এখনো আসেনি। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।