৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৫
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের ফারুক মিয়া ও বিলকিস বেগমের দুই দিনের নবজাতক গুরুতর অসুস্থ, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া যায়নি তাকে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি আট মাস ধরে অকেজো থাকায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পর শিশুর মাথায় সমস্যা ধরা পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো এবং অন্য অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় শিশুটিকে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড অপসারণ করলে প্রতিবাদে চালকরা ধর্মঘটে যান। এতে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। নবজাতকের পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চালকদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও কোনো সাড়া পাননি।
নবজাতকের ফুফু হাজেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার বলেছেন, বাচ্চাটাকে তাড়াতাড়ি সিলেটে নিতে হবে। কিন্তু কোনো অ্যাম্বুলেন্সই পাচ্ছি না। সবাই বলছে, অ্যাম্বুলেন্স নেই। আমরা খুব বিপদে আছি।”
শিশুটির মামা মোহাম্মদ আলী বাধন বলেন, “৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়েও কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ভেতর ধর্মঘট চলছে, কেউ সাহায্য করছে না। আমাদের মতো আরও অনেকেই রোগী নিয়ে আটকে আছে।”
অন্যদিকে স্মৃতি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের চালক নজরুল ইসলাম জানান, “জেলায় মোট ২০টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যার অর্ধেক অনিবন্ধিত। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ভেতরে রাখতে দেয় না। দেশের অন্য হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জায়গা থাকে, শুধু সুনামগঞ্জে ব্যতিক্রম।”
সুনামগঞ্জ বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স চালকরা চাঁদাবাজ নয়, তারা সেবা দেয়। তাদের হাসপাতালে থাকার জায়গা না দিলে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে নবজাতকের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ৩৩ বছরের পুরনো, ফিটনেসবিহীন হওয়ায় মার্চ মাস থেকে বন্ধ আছে। নতুন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল চত্বরে কোনো যানবাহন রাখার অনুমতি না দেওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।”
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো আর বেসরকারি সেবা বন্ধ থাকায় এখন পুরো জেলার মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সদ্যজাত ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের পরিবার।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D