এইডস থেকে বাঁচতে আরো কার্যকর নতুন ঔষধ

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫

এইডস থেকে বাঁচতে আরো কার্যকর নতুন ঔষধ

প্রতি বছর লেনাকাপাভির দুটি ডোজ এইচআইভি সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মানুষদেরও সুরক্ষা দিতে পারে। আমরা কি তাহলে এখন দীর্ঘ পরিসরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পারবো?

জোভানি নিগ্রো নিজের পিয়ানো কম্পোজিশন বাজাতে ভালোবাসেন। ৩২ বছর বয়সি এই যুবক এইচআইভি পজেটিভ। তা সত্ত্বেও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি যে ওষুধ গ্রহণ করেন তা এইচআইভি ভাইরাসের মাত্রা এতই নিচে রাখে যে তাতে অন্য কেউ সংক্রমিত হওয়া সম্ভব থাকে না।

জোভানি নিগ্রো বলেন, এটা আমার রুটিনের অংশ। কিছু মানুষ দিনে তিনবার দাঁত মাজেন। আর আমার দিনে একবার এসব ঔষধ খেতে হয়। জার্মানিতে প্রায় এক লাখ মানুষ এইচআইভি পজিটিভ। দেশটিতে প্রতি বছর দুই হাজার ২০০জন মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৩২০ জন মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই সংখ্যাগুলো কমানো সম্ভব যদি এইচআইভি প্রতিরোধে বর্তমানে যেসব উপায় আছে সেগুলো পুরোপুরি প্রয়োগ করা হয়।
যেমন, যারা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন তাদের সবাই যদি প্রতিরোধমূলক এন্টিভাইরাল গ্রহণ করেন। গত বছরের জুলাইয়ে এইচআইভি প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক গবেষণার ফলাফল বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। নতুন এক ঔষধের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা প্রতি ছয় মাসে একবার সেটি গ্রহণ করলে শতভাগ ঝুঁকি মুক্ত থাকতে পারবেন। নতুন এই ঔষধের নাম লেনাকাপাভি। এই ফলাফল ঘোষণা করা কক্ষে ক্রিশ্চিয়ান গেবলারও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বড় শূন্য দেখার অর্থ হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সময় নতুন কোনো সংক্রমণ হয়নি। এটা অত্যন্ত আবেগের এবং ইতিবাচক ব্যাপার। সেখানে দাঁড়িয়ে করতালি দেয়া হচ্ছিল। যদি একটি কৌশল প্রয়োগ করা যায়, এবং এই থেরাপি আসলেই সফল ও কার্যকর হয় এবং নতুন কোনো সংক্রমণ না হয়, তাহলে আমি বলবো, আমরা সবকিছু ঠিকভাবে করলে নতুন কোনো সংক্রমণ হবে না।

এইডস সংগঠনগুলোও সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে। কারণ, লেনাকাপাভি দৈনিক নেয়া প্রতিরোধমূলক ঔষধের চেয়ে বেশি কার্যকর। আর এই শট বছরে শুধুমাত্র দুইবার নিতে হবে।
ডয়চে এইডসহিলফে-র সিল্কে ক্লুম্ব বলেন, এটা সেই সব মানুষের জন্য অবশ্যই এক চমৎকার সমাধান, যারা প্রতিদিন পিল নিতে পারেন না, কারণ, সেগুলো হয়ত আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চান তারা। বা শুধুমাত্র পিল নেয়ার কারণে তাদের প্রতি সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে যারা উপকৃত হতে পারেন, তাদের সবাই প্রতিরোধমূলক পিল গ্রহণ করছেন না। ফলে, প্রশ্ন উঠেছে- এইচআইভি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বছরে দুটি লেনাকাপাভি ডোজ কারা নিতে পারবেন?
উৎপাদকরা বলছেন, শুরুর দিকে ঔষধটি সর্বত্র সরবরাহ সম্ভব হবে না। শ্যারিটে বার্লিন-এর এইচআইভি গবেষক ক্রিশ্চিয়ান গেবলার বলেন, দিন শেষে এটি সংক্রমণ রোধের ব্যাপার। আর এটা যদি আরো ভালোভাবে করা যায় তাহলে সেটি জার্মানিসহ সারা বিশ্বে সরবরাহ সম্ভব হবে।
আমি মনে করি, এটার প্রয়োজনীয়তা অন্যান্য অঞ্চলে অনেক বেশি। ঔষধটির উৎপাদক ঘোষণা দিয়েছে যে, আপাতত অপেক্ষাকৃত গরিব রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন কোম্পানিকে ঔষধটি সস্তায় উৎপাদনের জন্য অনুমতি দেয়া হবে। বছরে দুই ডোজ নেয়ার এই ঔষধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে এইচআইভি ভ্যাকসিন।
তবে গেবলার মনে করেন, খুব শীঘ্রই এধরনের প্রতিষেধক নাও পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, এই ভাইরাসের পরিবর্তনশীলতা বেশ দ্রুত। আর তা সবসময়ই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য সমস্যাজনক। আমাদের এখনো ভ্যাকসিন না পাওয়ার এটাও একটা কারণ। গেবলারের গবেষক দল এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়তে এন্টিবডি থেরাপি নিয়েও কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে ইমিউন সিস্টেমের বিভিন্ন এলিমেন্ট-এর প্রতিলিপি তৈরি করা হয়… এগুলো এমন প্রোটিন যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
ক্রিশ্চিয়ান গেবলার বলেন, সর্বশেষ যে ধাপে আমরা বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ করছি, সেটি হচ্ছে, কোথায় এই এন্টিবডি থেরাপি এইচআইভিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। অর্থাৎ এই দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণকে এমন এক পরিস্থিতিতে রূপ দেয়া যাতে এইচআইভি পজিটিভ মানুষেরা চিকিৎসা না নিয়েও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচতে পারেন। জোভানির মতো রোগীরা যদি এন্টিবডি থেরাপি নিয়ে আরোগ্যলাভ করতে পারেন, তাহলে তাদের আর প্রতিদিন পিল গ্রহণ করতে হবে না। তখন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর এই রোগে আক্রান্ত মানুষরাও ঝামেলামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবেন।


সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট