স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের দাবি জানালো ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপ

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৫

স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের দাবি জানালো ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপ

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের ক্ষতিপুরন আদায়ের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপ।

শনিবার (২২ ফেব্রম্নয়ারি) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরম্নল ইসলাম বলেন, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর পাথর আমদানীর একটি উল্লেখযোগ্য বন্দর। ২০১৯ সালে ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন থেকে দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষনা করে সরকার। এরপর সেখানে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয় একটি বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প গ্রহন করা হয়। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এই স্থল বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে পাথর আমদানীর সুবিধার্তে স্থল বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে একটি বন্দরের উভয় পাশে অর্থ্যাৎ ভারত ও বাংলাদেশ অংশে স্থলবন্দর নির্মাণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবেই উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সমান সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু একক ভাবে এক অংশে বা এক দেশে স্থলবন্দর নির্মাণ করা হলে যে দেশে বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে সেই দেশের উপর চাপ বাড়বে। উদাহরন হিসেবে তামাবিল স্থল বন্দরের কথা আপনাদের জানাতে চাই। সেখানে তামাবিল ও ডাউকিতে স্থলবন্দরের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, ভোলাগঞ্জে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের মেঘালয় অংশের সীমান্ত ঘেষা মাজাই এলাকায় স্থলবন্দরের কোনো অবকাঠামো নেই। মেঘালয়ের ওই অংশের ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে তাদের দেশের সরকারের কাছে চিঠি আদান-প্রদান করলে তারা জানিয়ে দিয়েছে ভারতের অংশে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে না। ফলে কেবল বাংলাদেশ অংশের ভোলাগঞ্জের ৫২ একর জায়গা জুড়ে স্থলবন্দর নির্মানের কাজ চলছে। এটি অযৌক্তিক। কেবল মাত্র লুটপাটের জন্য গুরুত্বহীন এই প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধিভুক্ত এলাকায় আগে কয়েকশ ব্যবসায়ীর কার্যালয় ও পাথর ডাম্পিং এলাকা ছিলো। ব্যবসায়ীরা ওখানে পাথর ডাম্পিং করতে পারতেন। কিন্তু প্রকল্প কাজ শুরম্ন করার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের অফিস ও ডাম্পিং স্টেশন গুড়িয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পানির প্রেশার দিয়ে ডাম্পিংয়ে রাখা প্রায় ৫-৬ কোটি টাকার পাথর নস্ট করে দেওয়া হয়। সেই পাথরগুলো আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। পুরো টাকাই ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তখন আমরা প্রতিবাদ করলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম সহযোগি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের হুমকির মুখে কিছু করা সম্ভব হয়নি। এই স্থলবন্দরে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, কয়েক হাজার শ্রমিকও জড়িত রয়েছে। এতে সবাই লোকসানের মুখে কর্মহীন হয়ে পড়েন।

এইপ্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে নজরম্নল ইসলাম বলেন, এইপ্রকল্পের অর্ধেক টাকাই লুটপাট করা হবে। স্থলবন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের টাকা দুর্নীতি করেছেন। এই দুর্নীতিকে হালাল করতে এখনো স্থলবন্দরের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে প্রকল্পের মাটি ভরাটে। ভোলাগঞ্জের সবচেয়ে উঁচু এলাকায় বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে মাটি ভরাটের জন্য যে টাকা বরাদ্ধ হয়েছে সব টাকাই লুটপাট করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা বরাবর আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। স্মারকলিপিতে আমরা জানিয়েছি অনেক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অফিস, ডাম্পিং স্টেশন এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্যাসিস্টদের সহযোগি ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। অথচ এক বছর আগে উচ্ছেদের সময় ক্ষতিগ্রস্থ কোনো ব্যবসায়ী বা শ্রমিকদের ক্ষতিপুরন দেওয়া হয়নি। অনেকেই অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যেও চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সহজ ভাবে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন নেই। এখন ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ভোলাগঞ্জ বাজার, গ্রাম ও পাশ্ববর্তী পাড়ুয়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন ও অফিস নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। কিন্তু এতে পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি পড়ছে। এছাড়া মানুষ বসবাসকারী গ্রামগুলোতেও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। স্থলবন্দরের প্রকল্প কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের অফিস, ঘর, সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি সহ স্থাপনা বাবদ ক্ষতিপুরন প্রদানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে এই স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হোক। অন্যথায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ে বাধ্য হবেন। আমরা আন্দোলন চাই না। শান্তি চাই। সরকারের তরফ থেকে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা তাদের ব্যবসা করারস্থান ফিরে পাবে এবং বন্দর নির্মাণের নামে যে লুটপাট হবে সেটি থেকে সরকারের টাকা সাশ্রয় হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রম্নপের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নজরম্নল ইসলাম, কোষাধড়্গ্য আব্দুস সালাম বাবুল, সদস্য নোমান আহমদ, ফখরুল হক সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট