জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নি*ষি*দ্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৪

জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নি*ষি*দ্ধ ঘোষণা

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রবেশে ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রদান করেছে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে বিবৃতি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ওয়ালে ও শাবিপ্রবির বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়। এই বিবৃতিতে ‘মুহম্মদ জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ করা হলো’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে শাবিপ্রবি শাখার কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাস বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে তার বিপরীতে প্রতিবাদ জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কয়েকটি দাবির সঙ্গে লেখক ও শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকেও ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাবিপ্রবি শাখার কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব বলেন, আমরা স্পষ্ট করছি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ যারা শিক্ষার্থীদের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কিংবা নেবেন তাদের শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ করা হলো।

মঙ্গলবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধটি তার ‘সাদাসিধে কথা’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। তাতে তিনি লিখেছেন- ‘আমরা সবাই জানি একটা দেশে যদি সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পায় আর সবার যদি সমান অধিকার থাকে, তাহলে কোটার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি না থাকে তাহলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কোটা রাখা একটা মানবিক ব্যাপার। অবশ্য ‘মানবিক ব্যাপার’ কথাটা একটু বইয়ের ভাষা। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কয়জনের আর অন্যদের মানবিক ব্যাপার নিয়ে মাথাব্যথা আছে? যদি কোটার ব্যাপারটা সহজভাবে দেখি তাহলে বলা যায়, দুই রকমের কোটা আছে। একটা ভালো, আরেকটা খারাপ।

প্রথমে খারাপটার কথা বলি, তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার কোটা, যেটাকে পোষ্য কোটা বলে। আমি খুঁটিনাটি জানি না, সম্ভবত পোষ্য কোটা শুধু শিক্ষকদের জন্য না, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্যও খোলা। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষকদের সন্তান ছাড়া আর কোনো সন্তান সেই সুযোগ ব্যবহার করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। এই পোষ্য কোটা নিয়ে কখনো উচ্চবাচ্য হতে শুনিনি। যদিও পোষ্য কোটার ছাত্র-ছাত্রীরা পাস করার পর আবার তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বানাবার একটি নতুন চাপ শুরু হয়—নিজের চোখে দেখা!’

নিবন্ধনের নিচের অংশে জাফর ইকবাল লেখেন- ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয়, আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই ‘রাজাকার’।

আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন, সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’

নিবন্ধনের এই অংশটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভ দেখা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট