আইভীর জীবনের গল্প

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ : ওসমান পরিবারকে টেক্কা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ছিনিয়ে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

২০০৩ সালে চেয়ারম‌্যান হওয়ার পর আট বছর এবং মেয়র হওয়ার পর আরো পাঁচ বছর মিলিয়ে ১৩ বছর নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। দেশের কোনো মহানগরে তিনিই প্রথম নারী মেয়র।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপড়েনের উত্তরাধিকার বহন করছেন আইভী। তার বাবা আলী আহমদ চুনকা ওসমানদের বিপক্ষ শিবিরে থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম‌্যান হয়েছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে ওসমানদের অনুপস্থিতিতে ২০০২ সালে প্রবাস থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন চিকিৎসক আইভী।

১৯৬৬ সালের ৬ই জুন রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম আইভীর। পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে আইভী সবার বড়। তিনি দেওভোগ আখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় স্টারমার্কসহ উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ১৯৮৫ সালে রাশিয়ান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ওডেসা পিরাগোব মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন এবং ১৯৯২ সালে কৃতিত্বের সাথে মেডিসিন ডাক্তার ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯২-৯৩ সালে ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে ইন্টার্নি সম্পন্ন করেন। আইভী তার সুদীর্ঘ শিক্ষা জীবনের পর ১৯৯৩-৯৪ সালে মিডফোর্ট হাসপাতালে এবং ১৯৯৪-৯৫ সালে নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।

আইভী ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর রাজবাড়ী নিবাসী কাজী আহসান হায়াৎ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী বর্তমানে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে নিউজিল্যান্ডে কর্মরত আছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জননী।

আইভী প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন ২০০৩ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করার পর ২০১১ সালের প্রথম নির্বাচনে নিজ দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। আর আইভি পেয়েছিলেন এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট।

আইভী দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত মাসে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, জনপ্রিয়তা, বর্তমান মেয়র, নারী নেত্রী, নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা ও বিএনপি নির্বাচনে থাকবে-এ পাঁচটি কারণকে বিবেচনায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই বেছে নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। ২৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। যাচাই-বাছাই ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট