খুলছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৬

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার প্রায় দেড় মাস পর খুলতে শুরু করেছে রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন মোতাবেক চাওয়া হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা। গত সপ্তাহে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মালিকদের একটি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। একাধিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন জানান, আমার জানা মতে, নামিদামি ৪/৫টি স্কুল এখনো খুলতে পারছে না বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ইস্যুতে। প্রথম সারির বেশির ভাগ স্কুলের প্রধান ও সিনিয়র শিক্ষকরা বিদেশি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে দেখতে হবে।

একজন বিদেশি শিক্ষক বৈঠকে জানান, স্কুলের ভেতরের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। কারণ বাইরে আমাদের দূতাবাস বা হাইকমিশনের নির্দেশনা মেনে চলি। কিন্তু স্কুলের ভেতরের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না।

বৈঠকে বিদেশি শিক্ষকদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা আলোচনা হয়। স্কুলগুলো সেই নিরাপত্তা কিভাবে বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে চলতি সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েশনের আবার বৈঠক ডাকা হয়েছে।

আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, স্কুলে শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। প্রায় প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা ও তল্লাশি চৌকি বাড়ানো হয়েছে। প্রকাশ্য নিরাপত্তার বাইরেও স্কুল কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় বেশকিছু নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

মালিকদের সংগঠন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জি এম নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রত্যেকটি স্কুলে সিসি ক্যামেরা, দেয়াল উঁচু ও বড় করা, সিকিউরিটি স্কিনিং, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাসহ আরো বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুলশান-বারিধারা ও বনানী এলাকায় অবস্থিত স্কুলের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিদেশি সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সব ধরনের তথ্য পার্শ্ববর্তী থানাকে অবহিত করতে বলেছি।

তিনি বলেন, গুলশানে বিদেশিদের টার্গেট করে যেহেতু হামলা ও কিলিং হয়েছে সেহেতু বিদেশিরা স্বাভাবিকভাবে একটু আতঙ্কিত। তারাও নিরাপত্তার বিষয়টি জানতে চায়। বিদেশিদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আগামীতে আরো কিছু উদ্যোগ নেয়া হবে। সেগুলোও তাদের জানিয়ে দেয়া হবে।

মালিকদের বৈঠকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে না পারার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়। সেখানে একাধিক মালিক অভিযোগ করেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত স্কুলগুলো খুলতে পারিনি। এ জন্য একই প্ল্যাটফরমে এসে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান কয়েকজন মালিক।

সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল কাজী নাসরিন সিদ্দিকা বলেন, বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের ভেতরে আমরা সিকিউরিটি বাড়িয়েছি। বাইরের নিরাপত্তা তো আমরা দিতে পারবো না। কারণ বাইরে বিদেশিরা নিজ দেশের দূতাবাসের নির্দেশনা ফলো করে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। স্কলাসটিকা স্কুলের উত্তরা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল সাফকাত ইয়াসমীন বলেন, বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছে তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা তো অবশ্যই নেয়া হবে। তবে সেটি প্রকাশ্যে বলতে রাজি হননি তিনি। বলেন, আমাদের নেয়া উদ্যোগ আগামী ১৬ই আগস্ট স্কুল খোলার পর দেখা যাবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট