৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৪
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায় একটি চক্র। চাকরিপ্রত্যাশীদের দিল্লিতে জিম্মি করে পরে বিভিন্ন কৌশলে কিডনি বের করে নেয় চক্রটি। চক্রটি এখন পর্যন্ত দেশ থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে ভারতে নিয়ে তাদের কিডনি কেটে নিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি মডেল থানায় চক্রটির বিরুদ্ধে রবিন নামের একজন ভুক্তভোগী মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ধানমন্ডি থানা পুলিশ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
গত ১১ মে ধানমন্ডি ও বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. রাজু হাওলাদার (৩২), শাহেদ উদ্দীন (২২) ও মো.আতাহার হোসেন বাপ্পী (২৮)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন মো. মাছুম (২৭), শাহীন (৩৫) ও সাগর ওরেফ মোস্তফাসহ (৩৭) অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন।
ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চক্রটি দেশের দরিদ্র মানুষকে ভালো চাকরি দেওয়ার আশা দিয়ে ভারতে নিয়ে নানান কৌশলে তাদের কিডনি হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী রবিনকে ভারতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে দিল্লির ফরিদাবাদে নেওয়া হয়। পরে তাকে নানান কৌশলে কিডনি বিক্রির জন্য রাজি করানো হয়। প্রথমে চক্রটি তাকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বললেও তাকে দেয় ৩ লাখ টাকা।
রোববার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিলের কোনো এক তারিখে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর শাহ আলী মার্কেটের পেছনে চায়ের দোকানে রবিন তার এক বন্ধুর সঙ্গে চা খাচ্ছিলেন এবং সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে কথা বলছিলেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে পাশে বসা অভিযুক্ত পলাতক আসামি মাছুম নিজ থেকেই রবিনকে বলেন, ভারতে তার ব্যবসা আছে। ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি রবিনকে চাকরি দিতে পারবেন।
এক পর্যায়ে মাছুমের সঙ্গে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করেন রবিন। এরপর মাছুমের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এক পর্যায়ে ভারতে গিয়ে চাকরির বিষয়ে রাজি হন রবিন।
ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, পরবর্তী সময়ে মাছুম ভুক্তভোগী রবিনকে বলেন, ভারতে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য যেতে হলে ডাক্তারি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে রবিনকে নিয়ে যান মাছুম। সেখানে তার সঙ্গে গ্রেফতার আসামি মো. রাজু হাওলাদারের পরিচয় হয়। পরে আসামিরা রবিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তার পাসপোর্ট নিয়ে নেন ভারতের ভিসার জন্য।
ভিসা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী রবিনকে ভারতের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা রবিনের আর্থিক অনটন, সাংসারিক অর্থনৈতিক দুরাবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন। তারা ভয়ভীতি দেখান এবং পাসপোর্ট ছাড়া দেশে ফিরে আসতে পারবেন না বলে জানান। পরে তিনি রাজি হলে দিল্লিতে এশিয়ান হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গুজরাটে নিয়ে একটি বাসায় রাখা হয়।
ডিএমপির এই পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে কাউকে কিছু না বলার শর্তে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ৪ মার্চ ভারতের গুজরাটে কিডনি অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রবিনের একটি কিডনি নেওয়া হয়।
অপারেশন শেষে হাসপাতাল থেকে ৪দিন পরে ছাড়া পান রবিন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আসামিরা ভারতের অজ্ঞাত স্থানে প্রায় ১০/১১ দিন রবিনকে আটক রাখেন। এক পর্যায়ে দালালচক্র রবিনকে কিছু টাকা দেওয়ার কথা বলেন। বাংলাদেশে অবস্থান করা চক্রের অন্য সদস্যরা রবিনের স্ত্রী ইশরাত জাহানের বিকাশ নম্বরে ৩ লাখ টাকা দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, চক্রের টার্গেট হলো যাদের আর্থিক চাহিদা আছে. রবিনের ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে। তাকে কিন্ত খুব সামান্য অর্থ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চক্রটি এসব কিডনি আরও চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কলকাতা ও গুজরাটেও কাজ করে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চক্রটি ভারতে নিয়ে ১০ জন ব্যক্তির কিডনি হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া তাদের পাইপলাইনে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন ছিল।
অপর এক প্রশ্নের তিনি বলেন, চক্রটি রবিনকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কিডনির বিনিময়ে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত তিন লাখ টাকা দেয়। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাদের কিডনি নেওয়া হচ্ছে এসব কিডনির গ্রহীতাও বাংলাদেশিরা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D