সিলেটে শবেবরাতের রাতে মসজিদে-কবরস্থানে মুসল্লীদের ঢল

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪

সিলেটে শবেবরাতের রাতে মসজিদে-কবরস্থানে মুসল্লীদের ঢল

আবুল কাশেম রুমন : সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালিত হচ্ছে।মুসলমানদের কাছে এই রাত ভাগ্য রজনী হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই মসজিদগুলোতে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও ক্ষমার আশায় ঢল নেমেছে মুসল্লিদের। কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির, দোয়া ও মোনাজাত করে সময় পার করছেন তারা।

আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবেবরাত বলে গণ্য করা হয়। সে হিসেবে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশের মতো সিলেটেও শবে বরাত পালন করছে মুসলমানরা।

এ উপলক্ষে সিলেট জুড়ে পাড়া-মহল্লায় জিকির, এবাদত ও বিশেষ মোনাজাতে মুসল্লীরা মগ্ন। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে মুসলমানরা ‘সৌভাগ্যের রজনী’ হিসেবে পালন করে থাকেন।

আরবি শাবান মাস একটি মোবারক মাস। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে তিনি এ মাসকে পালন করতেন। এ মাসের একটি রাতকে মুসলমানরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, মধ্য শাবানের এই রাত আমাদের এই জনপদে ‘শবে বরাত’ হিসেবে পরিচিত। আজ সেই মহিমান্বিত রাত।

একই সঙ্গে মৃত আত্মীয়-স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। পাড়া-মহল্লার মসজিদ গুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনেকে গভীর রাত অবধি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে পরদিন নফল রোজা রাখেন।

এদিকে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সিলেটের বিভিন্ন কবরস্থানগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল দেখা গেছে। প্রিয়জন, স্বজন ও প্রয়াতদের কবর জিয়ারতে এসেছেন আত্মীয়স্বজনরা। কবরস্থানগুলোর পাশে স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ।

এসময় নিরিবিলি স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন। আবার কেউবা অঝোরে কাঁদতে থাকেন। কেউ বাবা-মাকে হারিয়ে আর কেউ কেউ সন্তানসহ প্রিয় জনদের হারিয়ে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

নগরীর মানিক পীর টিলা কবরস্থান ও হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সরেজমিনে দেখা যায় দূরদূরান্ত থেকে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস কিংবা পায়ে হেটে কবস্থানগুলোর পাশে বসে বা দাঁড়িয়ে নিজেরা অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এছাড়া মূল ফটকের বাইরে অনেক ভিক্ষুককের ভিড় দেখা যায়। তাদের কেউ অন্ধ, কেউ বিকলাঙ্গ আবার কেউবা প্রতিবন্ধী। যারা কবর জিয়ারত করতে আসেন তাদের কাছে সাহায্য চাইছেন তারা। অধিকাংশ মানুষ এ রাতে দুহাত খুলে দান করছেন।

বরাবরের মতোই শবে বরাতের পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল সোমবার সরকারি ছুঁটি রয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট