সিলেটে অবোরোধে বিএনপি-জামায়াতের বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, বন্ধ দূরপাল্লার বাস, আটক ১

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৩

সিলেটে অবোরোধে বিএনপি-জামায়াতের বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, বন্ধ দূরপাল্লার বাস, আটক ১

বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের প্রথম দিনে সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সড়কে বিক্ষিপ্তভাবে পিকেটিং করছেন নেতাকর্মীরা।

সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পিকেটিং করেন নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী রাস্তার পাশে রাখা মানুষের ইট নিয়ে ভেঙে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ছড়িয়ে দেন। এসময় তাদেরকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

প্রায় একই সময়ে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের মানিপুর ও কাজলশাহ এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী গাছ ফেলে ও শুকনো ডালে আগুন ধরিয়ে পিকেটিং করেন।

এছাড়া সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের খাদিমনগরে পিকেটাররা গাড়ি ভাঙচুর করতে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

অপরদিকে মহাসড়কের জাফলং এলাকায়ও একটি অটোরিকশা ভঙচুর করেন পিকেটাররা।

সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নগরের নাইওরপুল থেকে কুমারপাড়া সড়কে পিকেটিংয়ের পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা ‘অবরোধ চলছে, চলবে’সহ নানা স্লোগান দেন।

সকালে নগরের শাহপরান এলাকায় পিকেটারেরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া দেয়। পরে অবরোধ-সমর্থকেরা পালিয়ে যান।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দূরপাল্লার কোনো যাত্রীবাহী বাস সিলেট ছাড়েনি। নগরেও তুলনামূলকভাবে যান চলাচল কম। এর ফলে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পারাইরচক জলকরকান্দি এলাকায় একটি খাদ্যপণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশ ধাওয়া করে এক পিকেটারকে আটক করে। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পারাইরচক জলকরকান্দি এলাকায় একটি খাদ্যপণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে পিকেটাররা ইট-ঢিল ছুঁড়ে গতিরোধ করে। পরে নিক্ষেপ করে পেট্রোল বোমা। এসময় গাড়ির সামনের অংশ পুড়ে যায়।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন আছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ জানান, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাসড়কসহ সব স্থানে পুলিশের কড়া নজরদারি আছে। এখন পর্যন্ত নগরে কোথাও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।

এদিকে, অবরোধের প্রথম দিনে সিলেটে রোববার সকাল থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে দুর পাল্লার কোন ধরণের বাস ছেড়ে যায়নি। তবে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দলগুলোর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌ পথে সর্বাত্মক অবরোধ শুরু হয়েছে। টানা ৭২ ঘণ্টা অবরোধ শেষে দুই দিন বিরতি দিয়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে দলগুলো।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

অভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএমসহ যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমমনা জোট ও দলগুলো। অবরোধ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টি।

বিএনপি-জামায়াতের এ অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। রোববার ভোর থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।

চলাচল বা পণ্য পরিবহনে কোথাও বাধা দেওয়া হলে অথবা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কাজ করবে বিজিবি। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। নিয়মিত টহল দিচ্ছে র‍্যাব-৯।