হজের খুতবা, বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৬

হজের খুতবা, বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান

পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান রুকন আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে হজের খুতবা। সৌদি আরবের মক্কা নগরী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রান্তরে মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে খুতবা শুরু হয়।

নামিরাহ মসজিদ থেকে খুতবা প্রদান করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবায় তিনি তাকওয়া অর্জন, আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ এবং পরকালের প্রস্তুতিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে তার জীবনের কাজের পূর্ণ হিসাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক না করা ঈমানের মূল ভিত্তি। মুসলমানদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও নৈতিক জীবনের ওপরও জোর দেন তিনি।

খুতবা শেষে আরাফাতের ময়দানে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেলে এসব নামাজ সম্পন্ন হয়।

এ বছর হজের খুতবা বাংলাসহ প্রায় ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হচ্ছে। টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় অনুবাদ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব। তারা সবাই সৌদি আরবের উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজ ৯ জিলহজ, যা ‘আরাফা দিবস’ হিসেবে পরিচিত। এদিন ভোর থেকে হাজিরা মিনায় ফজরের নামাজ আদায় শেষে ইহরাম পরিধান করে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। দিনভর তারা সেখানে ইবাদত, দোয়া ও মোনাজাতে মগ্ন থাকেন।

ইতিহাস অনুযায়ী এই ময়দানেই বিদায় হজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ধারণ করেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন।

দিন শেষে সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। এরপর কোরবানির মাধ্যমে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং শুরু হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। হজ শেষে মুসল্লিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।