নেপালে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১২৮

প্রকাশিত: ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৩

নেপালে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১২৮

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।এখন পর্যন্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১৪০ জনকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপালের জাতীয় দৈনিক দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১ টা ৪৭ মিনিটের দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে জাজারকট এলাকায় ৬ দশমিক ৪ মাত্রায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে নেপালের হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য অনেক এলাকায় এখনও পৌঁছাতে পারেননি সরকারি দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মী ও পুলিশ।

সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল জাজারকোট জেলার। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২৪৫ মাইল উত্তরপূর্বে অবস্থিত এই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাজারকোট পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সন্তোষ রোকা।

নেপালের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২৫০ মাাইল উত্তরপূর্বে অবস্থিত জাজারকোট জেলা ছিল এই ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ব জরিপ সংস্থা তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে— ভূপৃষ্ঠের ১১ মাইল গভীরে উৎপত্তি হয়েছে এ ভূমিকম্পের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে নেপালের বহু ঘরবাড়ি ও ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভূমিকম্পে দেশটির জাজারকোট ও পশ্চিম রুকুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাজারকোটে একজন মেয়রসহ ৪৪ জন এবং পশ্চিম রুকুমে ৩৬ জন মারা গেছেন।

এদিকে, ভূমিকম্পটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে। তবে, এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেপালের সীমান্ত থেকে নয়াদিল্লির দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিলোমিটার।

জাজারকোটের নালগাড় শহরের ডেপুটি মেয়র সরিতা সিংও এই মৃতদের তালিকায় রয়েছেন বলে কাঠমান্ডু পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন রোকা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহর থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫ জনেরও বেশি মানুষকে।

এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেপালের পশ্চিামঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা পশ্চিম রুকুম। জেলা পুলিশের ডেপুটি সুপারিটেনডেন্ট নমরাজ ভট্টরাই জানিয়েছেন, পশ্চিম রুকুমের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ জনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় ৮৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

জাজারকোট ও পশ্চিম রুকুমের পাশাপাশি নেপালের ভেরি, নালগাড়, কুশে, বেরেকোট ও চেদাগড়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে বলে কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ভূমিকম্পের কারণে মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে এক তাৎক্ষণিক পোস্টে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘শুক্রবার রাত ১২টার দিকে জাজারকোটের ভূমিকম্পে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল। উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’

এর আগে, গত ২২ অক্টোবর ৬ দশমিক ১ মাত্রায় ভূমিকম্পে দেশটির কাঠমান্ডু উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো কেঁপে ওঠে। তবে, ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো হতাহত হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহত হয়েছিলেন অন্তত ৯ হাজার মানুষ এবং প্রায় ১০ লাখ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট