‘শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ বিলুপ্তির এখতিয়ার কারো নেই’

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২৩

‘শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ বিলুপ্তির এখতিয়ার কারো নেই’

সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদ বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারো নেই বলে জানিয়েছেন এই পরিষদের জীবিত সদস্যদের দু’জন।

তারা হলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এনামুল মুনীর ও হ্যারল্ড রশিদ। সেই সাথে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে চলে আসা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের ক্রম পরিবর্তনের পাঁয়তারা তারা প্রত্যাখ্যান করে বুধবার (১৫ মার্চ) গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারো নেই। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চলে আসা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের ক্রমপরিবর্তনের পাঁয়তারা বাস্তবায়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা জীবিত সদস্য হিসেবে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ একটি চলমান প্রক্রিয়া।

বিবৃতিতে তরা উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে ‘সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ’র আহ্বানে ও তৎকালীন পৌরচেয়ারম্যান সিলেটের গণমানুষের প্রিয়জন প্রয়াত বদর উদ্দিন কামরানের আগ্রহে সিলেট পৌরসভা কেন্দ্রিয় শহিদমিনার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি বর্তমান মেয়র শহিদমিনারে কোন অনুষ্টান আয়োজনে ভাড়া নির্ধারণ ও বানিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অপচেষ্টা করেন। সিলেটের সচেতন মহল এতে ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেন। প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বাঙ্গালীর প্রাণের শহিদমিনারকে মেয়রের রাজনৈতিক অসৎউদ্দেশ্য প্রণোদিত এই বনিজ্যিকিকরণের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।

শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদের জীবিত চারজন প্রতিতষ্ঠাতা সদস্যের ঐক্যমতে গত ৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে শহিদমিনার প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। এতে সিলেটের রাজনৈতিক সামাজিক সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা কর্মীসহ সাধারণ মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং শহিদমিনার চত্বরে অনুষ্টান করতে কোনরকম ভাড়া নির্ধারণ ও বানিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান।

তারা বলেন, এসময় শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ৮ দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়। ১২ মার্চ সিলেটের কয়েকটি পত্রপত্রিকা ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আমরা জানতে পারি যে, বিগত ১১ মার্চ মেয়র এ বিষয়ে একটি সভা করেছেন। সেই সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন। আমরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করি ‘শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ’ বিলুপ্তি ও শহিদ দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে প্রথমে শহিদমিনার বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন প্রথা যা ১৯৮৮ সালে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনার প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলে আসছে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, শহিদমিনার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চলে আসা প্রথা ও শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করার অধিকার বা এখতিয়ার সিটি মেয়র বা কোন মহলের নেই।

এর কারণ হিসাবে তারা উল্লেখ করেন, কারন শহিদমিনার বাস্তবায়ন পরিষদ একটি চলমান প্রক্রিয়া ও চেতনাগত আদর্শিক অবস্থান। ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রান্তিক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটের সর্বস্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, লেখক-সাংবাদিক তৎকালীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও সম্মতিক্রমে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ গঠিত হয়। দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন ও সিদ্ধান্তগ্রহণ সহজতর করার মহতী উদ্দেশ্যে মাত্র ১১ এগারো সদস্যের এই পরিষদ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সভায় উপস্থিত সব শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীসহ সাংবাদিক সামাজিক, সাহিত্য- সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি সবাই পরিষদের সদস্য বলে আমরা মনে করি।

তারা আরও উল্লেখ করেন, মহান ভাষা আন্দোলন ও আমাদের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা এবং আদর্শিক অবস্থানকে ধারণ করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বাঙ্গালি জাতির অস্তিত্বের স্মারক ‘সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনার প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিষদ’র পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন অব্যাহত থাকবে। মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত আদর্শিক ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের ধারা অব্যাহত থাকবে।

তারা বাংলা ও বাঙ্গালীর শ্বাশত ঐতিহ্যিক সংস্কৃতি এবং আদর্শিক চেতনা বিরোধী অশুভ শক্তিকে প্রতিহত ও সব চক্রান্তের জটাজাল ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট