১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
ভালোবাসা যুগান্তকারী নজির দেখিয়েছেন ছোট্ট বায়েজিদ বোস্তামি,মায়ের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে পানি হাতে সারারাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়েছিলেন,আবার নবী ইয়াকুব আ: তারই পুত্র ইউসুফ আ: এর চিন্তায় কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, অন্যদিকে ইউসুফ আ: তার ভাইদের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্ত উদাহরণ দেখিয়েছেন তাদেরকে মাফ করে দিয়ে যারা কিনা তাকে খুন করতে চেয়েছিল। আমরা ইতিহাস থেকে এটিও দেখতে পাই নবী আইয়ুব আ:-এর প্রতি তার স্ত্রী রহিমার অগাধ ভালোবাসা, আবার অন্যান্য স্ত্রীসহ আয়েশা রাঃ প্রতি মুহাম্মদ সা.নিখাদ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করতে গিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক সময়ে আয়শা রা:- কে হুমায়রা (ছোট্ট লাল পাখি-) বলেও ডাকতেন। এই ভালোবাসা হলো ঐশী ভালোবাসা যেখানে নেই কোনো স্বার্থ,নেই কোনো ভেজাল, নেই কোনো কুটিলতাও জটিলতা বরং রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা,স্বস্তি,আন্তরিক, সহমর্মিতা,দয়া ও প্রশান্তি ।
“পৃথিবীটা তোমারি থাক/ পারলে নীল রং দিও/আকাশটা তোমারি থাক/পারলে কিছু তারা দিও/মেঘটাও তোমারি থাক/পারলে একটু ভিজতে দিও/হৃদয়টা তোমারি থাক/পারলে একটু জায়গা দিও”। ভালোবাসার এমন হাজারো পংক্তিমালায় প্রেমিক পুরুষ তার প্রেয়সীর প্রতি হৃদয়ের গহীণের করুণ আহবান জানায়। অন্যদিকে,বৃক্ষরাজিতে পুরণো পত্রপল্লব ঝরে পড়ে গিয়ে জানান দেয় ফাগুন যে এসেছে ধরায়। যার কারণে কবিতার ভাষায় কবি বলেছিলেন ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত। বাংলা পঞ্জিকার হিসাবে আজ পয়লা ফাল্গুন। একই সাথে আজ ১৪ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। শিমুল ফোটা, পলাশ ফোটার দিনে আগুন লাগা ফাগুনের আবীরেমাখা আজ বাসন্তী ভালোবাসা দিবস। বসন্তও ভালোবাসার উচ্ছাস এবং উন্মাদনায় আজ প্রেমিকযুগলের কাছে আসার আর ভালোবাসার দিন। এমন দিনে ফাগুন আর ভালোবাসায় একাকার হয়ে তারুণ্যের ঢল নামবে রাজধানীসহ সারাদেশে। বসন্তমিশ্রিত এমন ভালোবাসার দিনে আজ নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রিয়তমার হাতে হাত,চোখ চোখ রেখে নতুন দিনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুন্দর দিন। প্রেমিক পুরুষটি তার প্রিয়ার হাতে হাত রেখে মাথা গুঁজে বলবে ‘আমি তোমায় ভালোবাসি’। ভালোবাসার এদিনে প্রিয়জনের সাথে দিনভর স্বর্গীয় সুখের আবেগ আর অনুভূতি ছড়িয়ে পড়বে প্রেমিকহৃদয়ে। এমন অনন্য দিনে মুক্ত বিহঙ্গের মতো আনন্দ আর উচ্ছাসে মিলিয়ে যাবে দুটি প্রাণ। এদিনে দখিনা বাতাসে শাড়ির আঁচল ঊড়িয়ে জীবনের সবটুকু সুখ খুঁজে নেবে এক লহমায়। প্রিয়ার শাড়ির ভাঁজ,হাঁটার ছন্দ, চোখোচোখি সবকিছুতেই থাকবে প্রেমিক পুরুষের ভালোবাসার উচ্ছলতা আর উন্মাদনা। ভালোবাসার এমন দিনের প্রতিটি ক্ষণে থাকবে শুধু আরো বেশী ভালোবাসার,আরো বেশী কাছে আসার। মুঠোফোনের ম্যাসেঞ্জার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেইসবুক,ইমো,হোয়াটস অ্যাপের চ্যাটবক্সে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয়ে ভালোবাসা ও বসন্ত হয়ে উঠবে পল্লবিত। এদিনে চকোলেট,পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড,প্রিয় উপহার,বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন বিনিময় হয় কপোত-কপোতীর মাঝে। এছাড়া নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ,একটা গোলাপ ফুল,চকোলেট,ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ। অন্যদিকে,ঋতুরাজের আগমণে কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতিতে বসন্তের বাতাস উজ্জীবিত করবে বসন্তপ্রিয় বাঙালিদের। আগুনলাগা ফাগুনের সাথে ভালোবাসার লালে রাজপথে নামবে বাসন্তী ভালোবাসার মিছিল। হিমেল শীতের আড়মোড়া ভেঙ্গে পুরনো পাতা ঝরে গিয়ে বৃক্ষরাজিতে নতুন পত্রপল্লবে বসন্ত যেভাবে প্রকৃতিতে সৌন্দর্য্যের চাদর বিছিয়েছে ঠিক তেমনি ফাল্গুনী রঙের বসনের সাথে ফুলের চাদর গায়ে দিয়ে কপোত-কপোতীদের পরাণের গহীণ থেকে উচ্চারিত হবে ভালোবাসার ধ্বনি প্রতিধ্বনি। হলুদ-কমলার বাসন্তী আবীরের সঙ্গে ভালোবাসার লাল গোলাপে রাজপথ থেকে গলিপথে ছড়িয়ে পড়বে বাসন্তী দিনের ভালোবাসা। শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর,টিএসসি থেকে বাংলা একাডেমিসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, চারুকলাও টিএসসি,ধানমন্ডি লেক,রমনা পার্ক,সোহরাওয়ার্দী উদ্যান,ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর,বেইলি রোডের ফাস্টফুডের দোকান, হাতিরঝিল আর ফুটপাতের চটপটি-ফুচকার দোকানেও বিনিময় হবে অনুভূতির ডালপালা। লাল-হলুদ শাড়ি অঙ্গে জড়িয়ে হলুদ গাঁদা আর লাল গোলাপের অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে বসন্তের দিনে তরুনীরা যেভাবে ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়াবে ঠিক তেমনি বসন্তের হাওয়ায় মিশে ভালোবাসার উত্তাপে পাঞ্জাবি আর ফতুয়ায় তরুণরাও একাকার হয়ে যাবে ফাল্গুন আর ভালোবাসা উদযাপনে।
ইতিহাসবিদদের মতে,দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রীও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদন্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন,যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’।সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান সময়ে এসে ভ্যালেন্টাইন্স দিবসের কদর প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরা এই দিবস উপলক্ষে এই দিনে প্রায় কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে। ভালবাসা দিবসের জন্য মানুষেরা কার্ড, ফুল,চকোলেটও অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে। যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনে প্রায় আনুমানিক ৩কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়। বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের বাংলাদেশেও সমান্তরালে এই বিশ্ব দিবসটি পালন করা হচ্ছে ।
পরিশেষে আমাদের পাঠক দর্শক শ্রোতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে জানাচ্ছি আজ পহেলা ফাল্গুন বাসন্তী, ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলা পোস্ট |√| প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |√|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D