চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২

চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর


সিলেট বিভাগের চা শ্রমিকদের সঙ্গে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলাসহ চটগ্রাম বিভাগের চা বাগানগুলোর শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মতবিনিময় শুরু করেন। মতবিনিময়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সঞ্চলনায় ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবা চা বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তৎকালীন সময়ে চা শ্রমিকদের স্বার্থ চিন্তা করে তাদের জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন। তাঁর মতো আমিও আপনাদের জন্য যা যা করা দরকার সব করবো। চা শ্রমিকদের উন্নয়নে সব করতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার।

সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকার গলফ ক্লাব মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলি গোয়ালার হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেন জেলা প্রশাসক। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া শ্যামলি গোয়ালা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কয়েকটি দাবি পেশ করেন। সেগুলো হচ্ছে- সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য নিজস্ব ভূমি ও ঘর, চিকিৎসাসেবায় অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং চা শ্রমিক গর্ভবতী নারীদের ৪ মাসের বদলে ৬ মাসের ছুটির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

শ্যামলি গোয়ালার পরে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা। তিনি বক্তৃতাকালে চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে আলাদা কোটা ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের সুযোগ প্রদান এবং গ্রেচুয়িটি (অনিবার্য কারণবশত: ৫ বছর পর চাকরি ছেড়ে দিলে এককালীন ভাতা বা বখশিশ) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে চা শ্রমিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রাজ গোয়ালা।

তাদের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীও চা শ্রমিকদের কান্নাময় বক্তব্য শুনে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন- আমার তো বাবা-মা কেউ নেই, আপনারাই আমার সব। আপনাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।

সিলেটের অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম, জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, দৈনিক মজুরি ১২০ থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীতকরণের দাবিতে সিলেটসহ সারা দেশের চা শ্রমিকরা টানা ১৯ দিন আন্দোলন করেছেন। গত ৮ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে গত ২২ আগস্ট শ্রমিকদের একাংশ আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে ফিরলেও আরেক অংশ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন। চা শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটে সারাদেশের বাগান থেকে চা-পাতা উত্তোলন, কারখানায় প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদন বন্ধ থাকে।

এতে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের চা শিল্প। এ অবস্থায় গত ২৭ আগস্ট বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বৈঠকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি আনুপাতিক হারে তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। সবমিলিয়ে দৈনিক মজুরি হবে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর ২৮ আগস্ট থেকে সিলেট বিভাগের সকল বাগানের চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে চা শ্রমিকরা তাদের সুখ-দুঃখ ও দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার এই ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট