মেঘালয় পাহাড়ে কয়লা কুড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২২

মেঘালয় পাহাড়ে কয়লা কুড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

অভাবের তাড়নায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে কয়লা কুঁড়াতে গিয়ে কোয়ারি ধ্বসে অনিক আহমেদ নামে এক বাংলাদেশী স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে।

রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে স্বজন ও এলাকাবাসী সীমান্তের ওপার থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ সীমানায় নিয়ে আসেন।

নিহত অনিক আহমেদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম লাকমার আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে। অনিক স্থানীয় টেকেরঘাট স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

রবিবার রাতে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত স্কুল ছাত্রের পিতা আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, পবিবারের লোকজনকে না জানিয়ে পারিবারীক অভাব অনটনের মুখে এলাকার অন্যান্য শ্রমিকদের দেখা দেখি তাদের সাথে প্রথমবারের মত আমার ছেলে অনিক আহমেদ ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে থাকা একটি কোয়রি থেকে কয়লা কুঁড়াতে যায়। এরপর পাহাড়ের ওই কয়লা কোয়ারি ধ্বসে পড়লে সেখানেই কয়লা চাঁপা পড়ে সে মৃত্যু বরণ করে। পরবর্তীতে সাথে থাকা শ্রমিকরা ফিরে এসে এ দূর্ঘটনার খবর দিলে এলাকার লোকজন ও স্বজনরা ওই কোয়ারি থেকে লাশ উদ্ধার করে রবিবার দুপুরের দিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন জানান, ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী টেকেরঘাট, বালিয়াঘাট, বারিয়াঘাটের লালঘাট, চারাগাঁও বিওপির বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা দিবারাত্রী সময় সুযোগে অবৈধভাবে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে থাকা বিভিন্ন কোয়ারি থেকে কয়লা উক্তোলন করে এপারে নিয়ে এসে বিভিন্ন কৌশলে বিক্রি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোন কোন পরিবারের সদস্যরা অভাবের তাড়নায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে থাকা বিভিন্ন কোয়রি থেকে কয়লা উক্তোলন করে বিক্রির কাজে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে।

রবিবার রাতে ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সুনামগঞ্জে অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাহবুবুর রহমানের নিকট এ বিষয়ে জানতে চেয়ে দু’দফা সরকারি মোবাইল ফোনে কল করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হোয়াট অ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন প্রকার বক্তব্য প্রদান করেননি।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট