বই মেলায় এখনও একুশ ও বসন্তের আবহ

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২

বই মেলায় এখনও একুশ ও বসন্তের আবহ

প্রাণের বইমেলা ২০২২

|| মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ||

(ধারাবাহিক আলোচনা পর্ব-৭ ) আজ ১৩তম দিন শেষ



রোববার মেলার ১৩তম দিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে শোক আর বসন্তের আবহে ঘেরা, এদিন কালো পোশাকে ফুলের টায়রা মাথায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে তরুণীদের।

এখনো যেন একুশের আবহ মেলাকে ঘিরে রেখেছে। বইমেলার ১৩তম দিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে শোক আর বসন্তের আবহে ঘেরা। যা অনেকটা পোশাকিই বলা চলে। এদিন তরুণ থেকে বয়সীদের কালো পোশাকে ফুলের টায়রা মাথায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। বই কেনার চেয়েও অনেককে দেখা গেছে দল বেঁধে আড্ডা আর সেলফি তোলায় ব্যস্ত। এছাড়া গত দুদিনের সমাগমের ধাক্কা সামলে শুরুতে মেলাকে অনেকটাই নিরিবিলি দেখা গেছে। তবে বিকেল গড়াতেই কিছুটা ভীড় বেড়েছে।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে।

জানতে চাইলে ষাটোর্ধ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা সোবহান আসাদ বলেন, আবেগ এখন অন্তর্গত হওয়ার চেয়ে বাহ্যিক হয়ে গেছে। আমাদের সময় ফেব্রুয়ারি কিংবা বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংকলন প্রকাশ করতাম, রাত জেগে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতাম। কিন্তু এখন হৃদয়ের সেই আবেগও নেই তাড়নাও নেই। মোবাইলেই সবাই সেরে নিচ্ছে। এছাড়া অনেকেই সাদা কালো পোশাক আর শাড়ি পরেই একুশের প্রতি শ্রদ্ধার পার্ট শেষ করে। মূলত একুশে ফেব্রুয়ারি এখন পোশাকি উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের এই আচরণ আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। একুশের চেতনা তাদের মনে ছড়িয়ে দিতে এখনই দায়িত্ব নিতে হবে। এটা শুরু হোক পরিবার থেকেই।

কথা প্রকাশের বিক্রয়কর্মী মাজেদ জানালেন, সবেমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। সারাদেশের শিক্ষার্থী আর শিক্ষকরা এই মেলায় ছুটে আসেন কাঙ্খিত বইটি কিনতে। আশাকরি সামনের দিনগুলোতে বিক্রি বাড়বে।

করোনাভাইরাস: এবার একুশে ফেব্রুয়ারির আয়োজনও সীমিত আকারে উদযাপন করা হয় ।
করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দু’জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ আরোপ অনুযায়ী ।


লেখক : বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশক |•| ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : বাংলা পোস্ট |•| বিশেষ প্রতিবেদক : দৈনিক নয়াদেশ |•|




 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট