ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে : ফখরুল

প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে : ফখরুল

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেই তারা একেক সময় একেক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোমবার (০৪ মে) দুপুরে রাজধানীতে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে রমজান উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এই অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিলো যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ করল, কিন্তু দুদিন পরে গণপরিবহন খোলা রাখল। ফলে সব কিন্তু গ্রামের সারা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। এই বিষয়গুলো আজকে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার আজকে গার্মেন্টস খুলেছে, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের যে নিরাপত্তা সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। গার্মেন্টস কর্মীদের এখন আবার অনেকেই আক্রান্ত হওয়া শুরু হয়েছে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে। অর্থাৎ সরকার ব্যর্থ হয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের তাদের শ্রমিকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই দুঃসময়ে আমি কোনো সমালোচনা করতে চাই না। শুধু যে ত্রুটিগুলো, যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি। আমরা মনে করি যে, এই ত্রুটিগুলো দেখে মানুষকে এক করে, সবাইকে একত্রিত করে, ঐক্যবদ্ধ করে সব মানুষকে নিয়ে আজকে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে।

সরকার সঠিক পথ দেখাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকে সারাদেশের মানুষ সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে এই অসুখ থেকে বাঁচার জন্য। কী দুর্ভাগ্য আমাদের যে, সরকার… যাদের থেকে মানুষ আশা করে যে, দুর্যোগের দিনে, দুঃসময়ের দিনে তারা সঠিক পথ দেখাবে…কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার আমাদের সঠিক পথ দেখাতে পারেনি।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ ছুটি এখনো চলছে।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন ঘোষণা করেছে তখন এরা কিন্তু লকডাউন ঘোষণা করেনি, স্থানীয়ভাবে লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয়ভাবে কোনো লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। ফলে মানুষ এটার গুরুত্ব সেভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি ত্রাণ বিতরণ যেটা মানুষের এই দুঃসময়ে কাছে পৌঁছানোর কথা সেই কাজটা কখনো সরকার সঠিকভাবে করতে পারছে না বলেই আজকে এতো অভাব। আমরা এপ্রিলের ৪ তারিখে সরকারকে একটা প্রস্তা্ব দিয়েছিলাম যে এই সাধারণ মানুষ যারা আছে… যারা এখন কাজ করতে পারবে না, তাদের প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য আমরা বলেছিলাম। এগুলো স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তালিকা করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে। এখন পর্যন্ত সরকার এটা কেয়ারই করেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন এলাকায়, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন, এভাবে যেন আমরা আমাদের ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে পারি, যারা এখন অত্যন্ত দুঃসময় কাটাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং তাদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত না করার দাবিও জানান ফখরুল।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট