বেগম খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি দাবি

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

বেগম খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি দাবি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে দলটি। গতকাল শনিবার পুলিশি বাধা, হামলা ও গ্রেফতার উপেক্ষা করে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।  আজ একই দাবিতে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখে অথবা জাতীয় প্রেসক্লাবের  সামনে বেলা ২টায় বিএনপি’র উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলের পক্ষ থেকে উক্ত সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্য জনগণসহ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

সিলেটঃ সিলেট অফিস জানায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দেশ ও জাতির চরম ক্রান্তিকাল চলছে। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাদের ফ্যাসীবাদী শাসন পাকাপোক্ত করতে জনগণের প্রতি জুলুম চালাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দেশে  আইনের শাসন বলে কিছু নেই। সর্বত্র চলছে খুন, হত্যা,ধর্ষন, শিশু ধর্ষন ও লুটপাটের মহোৎসব। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশে কোন সরকার নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন বাধাগ্রস্থ করতেই ষড়যন্ত্রমুলক মামলার ফরমায়েসী রায়ে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সরকার তাঁকে জামিন না দিয়ে ক্রমাগত মৃত্যূর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কোন স্বৈরাচারী শাসকের শেষ পরিনতি ভাল হয়নি। আওয়ামী বাকশালীদেরকেও চরম মূল্য দিতে হবে। মনে রাখতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তি একই সূত্রে গাথা। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে প্রথমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আর কোন টালবাহানা না করে তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দেশপ্রেমিক জনতাকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্রমুলক মামলার ফরামেয়েসী রায়ে কারান্তরীণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপরোক্ত কথা বলেন।
সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান আরো বলেন, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপির মুখ ছাড়া নাকি সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং দেশবাসীর বুঝতে বাকি নাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিও তাদের নিয়ন্ত্রণে। মুল কথা হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া কোন কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ ঔষুধ থেকে শুরু করে সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রমাণ করে বাজার ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। সবকিছু লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আমাদের নেত্রীর হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাঁর মনোবল এখনো অটুট আছে। তাই পদ-পদবীর জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে গেলে চলবেনা। ফ্যাসীবাদি সরকারের সকল নিয়ন্ত্রণ ভেঙ্গে দিতে সর্বস্তরের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে ঝাপিঁয়ে পড়তে হবে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবোই।

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে ও মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম সিদ্দিকীর পরিচালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব এম. এ হক, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

সমাবেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা : বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের আপোসহীন নেত্রী অভিহিত করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলছেন, কোন চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। আইনী প্রক্রিয়ায় জামিন প্রাপ্তি তার সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার লাভের জন্য তিনি আপোস করবেন না। তাই আমাদের ওপর দায়িত্ব বর্তেছে, রাজপথে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা।
শনিবার খুলনায় প্রতিহিংসার বিচারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক মন্ত্রী মঈন খান এ কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলের মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশ।
সমাবেশে মঈন খান সুন্দরবনকে এ জনপদের রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে কয়লা চালিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিবেশ প্রতিবেশ বিনষ্ট হবে। সরকার সমর্থিত গুটিকয়েক লোকের পকেট ভারি করতে সারাবিশ্বে বাতিল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ হবে আত্মঘাতী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপি সুযোগ পেলে এই প্রকল্প বাতিল করবে।
মঈন খান বলেন, সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়াকে এক বছর নয় মাস বন্দি করে রেখেছে। হাসপাতালে রাখলেও তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। যে অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে, একই রকম অভিযোগে জামিন দেওয়ার অসংখ্য নজির এই দেশেই আছে। কিন্ত তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক মানবাধিকার তার ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি একজন নারী এবং তিনি একজন সিনিয়র সিটিজেন। শুধুমাত্র এই তিন কারণে তিনি জামিন পেতে পারেন।
সরকার উন্নয়নের ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করছে। ১০০ কোটি টাকা প্রকল্প একনেকে ঢুকছে, পাস হয়ে বের হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকায়। জনগণের পকেট কেটে, ঋণের বোঝা বাড়িয়ে গ্রহণ করা এই সব মেগা প্রজেক্টের বাড়তি টাকা কাদের পকেটে ঢুকছে- জানতে চান ড. মঈন খান। ভাঁওতাবাজির উন্নয়নের খপ্পরে পড়ে পেঁয়াজ ৩০০ টাকা, লবণ ২০০ টাকা হচ্ছে। চালের দাম হু হু করে বাড়ছে। দেশে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বেড়েই চলেছে। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার গালগল্প শোনালেও যশোর থেকে খুলনা আসার মহাসড়কটির বেহালদশা ১০ বছরেও শেষ হয়নি। ইউরোপ, আমেরিকা, এমনকি বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের এক কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ ব্যয়ের চাইতে আমাদের ব্যয় কয়েকগুণ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অ্যাড. গাজী আব্দুল বারী, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মেজবাউল আলম, মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, খায়রুল ইসলাম জনি, রেহানা আক্তার, মেহেদী হাসান দীপু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, মুজিবর রহমান, শরিফুল ইসলাম বাবু এবং হেমায়েত হোসেন। আসাদুজ্জামান মুরাদ ও ওহেদুজ্জামান রানার পরিচলনায় সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল মান্নান।
এর আগে নগরীর সকল ওয়ার্ড ও জেলার সকল উপজেলা থেকে বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের খন্ড খন্ড মিছির সমাবেশ স্থলে হাজির হয়। মিছিল থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবৈধ অনির্বাচিত সরকারের পদত্যাগ দাবি করে শ্লোগান দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার নিপীড়নের মাত্রা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের লেবাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অবৈধ সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে তারা একদিকে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালাচ্ছে অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্য কায়েম করেছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ও তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার কুমানসে অন্যায়ভাবে জেলে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের অব্যাহত নির্যাতন নিপীড়নে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখনই প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
তিনি গতকাল বিকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোস্তবিল্ডংস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আবু সুফিয়ান আরো বলেন, সারাদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য ১/১১ সরকার যেভাবে বানোয়াট মামলা দিয়ে জেলে পুরে রেখেছিল ক্ষমতাসীন হাসিনা সরকারও ১/১১-এর ধারাবাহিকতায় বেগম জিয়াসহ বিএনপির ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ১ কোটির বেশি মামলা করেছে। জামিন পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সাংবিধানিক অধিকার বলে উল্লেখ করে আবু সুফিয়ান বলেন, এই সরকার সংবিধান বিচারালয় জনমত কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে গ্রাম-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন, জেলা-উপজেলায় সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খানের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মো. আলী আব্বাছ, আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, মো. ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, অ্যাড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, এম এ রহিম, বদরুল খায়ের চৌধুরী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বুলবুল, এম. মঞ্জুর উদ্দিন চৌধুরী, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মোজাম্মেল হক, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, অ্যাড. ফৌজুল আমিন, হুমায়ন কবির আনসার, লায়ন হেলাল উদ্দীন, হাজী রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, জিয়া উদ্দিন আশফাক, জামাল হোসেন, লোকমান হোসেন মানিক, এস এম সলিম উদ্দিন চৌধুরী খোকন, চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবু, ইব্রাহিম খলিল চেয়ারম্যান, অ্যাড. আবু তাহের, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এস এম শাহজাহান, ছাত্রদল সভাপতি শহিদুল আলম শহিদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক মোজাম্মেল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফৌজুল কবির ফজলু, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান, মহিলা দল নেত্রী আফরোজা বেগম জলি প্রমুখ।
বগুড়া : বগুড়া অফিস জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বগুড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলালের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কেএম খায়রুল বাশারের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে গায়ের জোরে বন্দি করে রেখেছে। বন্দি করার মধ্য দিয়ে তারা শুধু দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীকেই বন্দি করে রাখেনি বরং তারা গোটা দেশ, গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও এক শ্বাসরুদ্ধকর বন্দিশালায় আটকে রেখেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র ফিরবে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ হবে, দেশের মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাবে। তাই দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদের আর বসে থাকলে চলবে না, জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির নেতা রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদিন চাঁন, জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, খাজা ইফতেখার আহম্মেদ, এম আর ইসলাম স্বাধীন, এ্যাড. শাহজাদী লায়লা আরজুমান, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, মীর শাহে আলম, সহিদ উন নবী সালাম, শেখ তাহা উদ্দিন নাইন, ওমর ফারুক খান, ভিপি অধ্যাপিকা শামিমা আকতার পলিন, সাইদুজ্জামান শাকিল,মনিরুজ্জামান মনির। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. সোলায়মান আলী, গাবতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোল্লা, কাহালু উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সেলিম উদ্দিন, শিবগজ্ঞ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল হাকিম, শহর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মশিউর রহমান শামিম, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আকরাম হোসেন, বগুড়া জেলা যুবদলের আহবায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, যুগ্ম-আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এ বি এম মাজেদুর রহমান জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক সরকার মুকুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মইনুল হক বকুল প্রমুখ।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। এজন্য সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে। এ সময় তিনি সকল নেতাকর্মীকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার জেলা দক্ষিণ বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সসহ জেলা বিএনপি তার অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বর্তমান অগণতান্ত্রিক জনবিচ্ছিন্ন সরকার জনগণের কল্যাণের কথা ভাবতেই পারছে না। ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করে যাচ্ছে। আজ দ্রব্যমূল্যের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না।
শ্রীপুর : শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারা ও রোগমুক্তি কামনায় দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় গাজীপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক  শাখাওয়াৎ হোসেন সবুজের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর মাস্টার, কাজী খান, আবু তাহের মুসল্লি, জয়নাল আবেদীন তালুকদার, মনিরুল ইসলাম মনির, হাসিববুর রহমান মুন্না, কাজী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
অপর দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তারুল আলম মাস্টারের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মড়লের পরিচালনায় ২২ নভেম্বর সন্ধার পর ৮নং ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী, ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম লিটন, অ্যাড. জাফর আহমেদ, জমির হোসেন পুলিশ (অব), সাইফুল হক মোল্লা, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
মাদারীপুর : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল সকাল ১০টায় মাদারীপুর পুরান বাজার মেলবোর্ন প্লাজার সামনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. জামিনুর হোসেন মিঠুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ বাবুল হাওলাদার, সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমান হাওলাদার, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম লিটু, মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আছমত আলী মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য গাউছ-উর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন খান মফা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক বেপারী, জেলা বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম মাতুব্বর, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ, শ্রমিক দলনেতা অ্যাড. শামীম মিয়া প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ শাহিন মজুমদার, যুবনেতা এইচ.এম তুহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইরাদ মুন্সি, কৃষক দল নেতা মোঃ কামরুল হাওলাদার, শ্রমিকদল নেতা মোঃ রহমান চৌকিদার, সেলিম মুন্সি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির হোসেন সহ বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, অনতিবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ভোটারবিহীন মিডনাইট সরকারকে এদেশ থেকে চিরতরে উৎখাত করা হবে।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার গাইবান্ধা জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুলের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান নাদিমের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদর থানা বিএনপির আহবায়ক খন্দকার ওমর ফারুক সেলু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলমগীর সাদুল্যা দুদু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মঞ্জুর মোর্শেদ বাবু, জেলা যুবদল সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী, আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাড. মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক স্বপন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুন্নবী তিমু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম রুবেল, জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন পল্টন প্রমুখ।