৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯
নানা প্রতিকূলতার পরে অবশেষে আগামী মাসের শুরুতেই ঘোষণা করা হচ্ছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটি গঠনের কার্যক্রম প্রায় শেষ এখণ তারেক রহমানের অনুমোদন পেলেই তা ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন যুবদলের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র।
যুবদলের কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে চললেও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কাউন্সিলের পর যুবদলের মধ্যেও কাউন্সিলের দাবি ওঠে।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুবদলের আংশিক কমিটির নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে চলতি মাসেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেন। আগামী তিন মাস পর এ কমিটির মেয়াদ শেষ হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথাও জানিয়ে দেন তিনি। এছাড়া যুবদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা বেধে দেয়ার কথা জানান তারেক রহমান। হাইকমান্ডের এমন বার্তায় নড়েচড়ে বসেছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
সূত্র আরও জানায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় সুপার ফাইভ নেতাদের মধ্যে একদিকে রয়েছেন সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব এবং সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু। অপরদিকে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান।
যুবদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কথা থাকলেও টুকু-নয়ন-মামুনরা চাইছেন ২৫০ থেকে ২৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের। অন্যদিকে নীরব-বাদরু চাইছেন ২১১ থেকে ২২১ সদস্যের কমিটি গঠনের। সুপার ফাইভের দুই গ্রুপের নেতারা বৈঠক করে ২৭১ সদস্যের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ১৫০ জন রয়েছেন নীরবের অনুসারী, বাকিরা টুকুর।
কয়েক দিনের মধ্যে ওই তালিকা তারেক রহমানের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে নেয়া হবে। আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে। তবে তারেক রহমানের কথা বলে তার অনুমোদন বা অন্য কোন কারণে এই তারিখে না হলেও আগামী মাসের শুরুতেই কমিটি ঘোষণা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, কমিটির আকার নিয়েই মূলত যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও এর মেয়াদ মাত্র তিন মাস। এরপর যে কমিটি হবে তা কাউন্সিলের মাধ্যমে। সেই কাউন্সিলে নীরবের আধিপত্য বজায় রাখতে কমিটির আকার ছোট করে তার অনুসারীদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে টুকু চাইছেন যুবদলে তার আধিপত্য সুদৃঢ় করতে। এ কারণে তিনি বড় আকারের কমিটি চাইছেন।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের বিগত তিন কমিটি ‘টুকু-আলীম’, ‘জুয়েল-হাবিব’ ও ‘রাজিব-আকরাম’ যুবদলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এদের অধিকাংশই টুকুর অনুসারী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের কমিটি হলে সেখানে নীরবের আধিপত্য থাকবে, আর টুকু থাকবেন কোণঠাসা। আবার ২৫০-২৭১ সদস্যের কমিটি হলে নীরব-টুকুর অনুসারীদের সমানুপতিক হার থাকবে। সেক্ষেত্রে বয়সসীমা যদি ৪৫-৫৫ করা হয় তবে নীরবের অনেক অনুসারী যুবদল থেকে ছিটকে পড়বেন। এক্ষেত্রে টুকুর অনুসারীরা সংগঠনে শক্তিশালী হবে।
সূত্র জানায়, যুবদলে আধিপত্য বজায় রাখতে টুকু স্থায়ী কমিটির এক সদস্যসহ সাবেক কয়েকজন যুবদলের নেতার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় হাইকমান্ডসহ বিভিন্ন মহলে তারা নীরবকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছেন। তবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আশীর্বাদপুষ্ঠ হওয়ায় নীরবকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।
সাইফুল ইসলাম নীরব বলেন, গত কমিটি ২৭১ সদস্যের ছিল এবারও ২৭১ সদস্যের হবে। খুব শিগগিরই এ কমিটি ঘোষণা হবে। কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় নেতাদের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি।
প্রসঙ্গত: ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন বছর মেয়াদি যুবদলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা হয়। সাইফুল ইসলাম নীরবকে সভাপতি, মোরতাজুল করিম বাদরুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, নরুল ইসলাম নয়নকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মামুন হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
একই বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটিতে সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিরউদ্দিন জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল এবং যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সুপার সেভেন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে শরিফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোওলা শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইদ হাসান মিন্টু, আর টি মামুন ও আনন্দ শাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জামাল উদ্দিন খান শাহীন (সদ্য প্রয়াত) এর নাম ঘোষণা হয়। সুপার ফাইভ ঘোষণার পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও সেটা পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D