প্রহসনের সরকারকে’ গ্রহণযোগ্য করতেই চা-চক্র : মঈন খান

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

প্রহসনের সরকারকে’ গ্রহণযোগ্য করতেই চা-চক্র : মঈন খান

‘প্রহসনের সরকারকে’ জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্য করতেই গণভবনে চা-চক্রের আয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

২ ফেব্রুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চা-চক্রের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

মঈন খান বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যে প্রহসনের নির্বাচনে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। সেই সরকারের সত্যিকারের অবস্থান কোথায়- সেটা আমরা যদি নাও জানি, সরকার নিজে কিন্তু ঠিকই জানে। আর নিজে ঠিকই জানে বলেই আজকে সরকার ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে কিভাবে তাদের এই যে প্রহসনের সরকার, সেই সরকারকে মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তোলা যায়। মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য করার এই যে প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই চা-চক্রে (গণভবনে) আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটাই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ বিশ্বাস করে। তারা জানে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ও ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে কী নাটক ঘটেছিল তা সবাই অবহিত আছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কোকোর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্মৃতি সংসদের শামীম তালুকদার, আলমগীর হোসেন, শাহিন খন্দকার, রেজাউল করীম রেজাসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচনের ভোট কারচুপির সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে আবদুল মঈন খান বলেন, এটা কোনো নির্বাচন হয়নি, এটা হচ্ছে একটা প্রহসনের নির্বাচন, একটা ভুয়া নির্বাচন। সেই ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ আজকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে সেই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই সংসদ আজকে প্রতিনিধিত্ব করে সন্ত্রাসীদের, যে সন্ত্রাসীরা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা ভোট জালিয়াতি করে নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে।

সরকারের সমালোচনা করে সাবেক মন্ত্রী মঈন খান বলেন, আজকে যত উন্নয়নের কথা বলা হোক না কেনো, উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি, এই নতুন সরকারের বয়স চার সপ্তাহ হয়েছে। সংসদ এখনো বসেনি। দুইটি মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্ভবত হয়েছে। কিন্তু দেখুন- এই ৪ সপ্তাহের ভেতরে ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিভাবে হলো, কারা নিলো, কোন দায়িত্বে নিলো? উত্তর হচ্ছে- মেগা প্রজেক্ট, মেগা দুর্নীতি।

দেশের এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঈন খান বলেন, যেখানে অলিখিত বাকশাল চলে সেখানে সুশাসনের কথা, মায়া-মমতার কথা, হৃদয় বেদনার কথা বলে কোনো লাভ নেই। অনেক বক্তা বলেছেন, যে আমাদের এখন নতুন করে ভাববার, নতুন করে কৌশল নেওয়ার সময় এসেছে। আমি বলতে চাই, অন্যায়-নির্যাতন করে কোটি কোটি মানুষকে হয়ত সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে রাখা যাবে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে চিরকালের জন্য কোনো অপশক্তি স্তব্ধ করে রাখতে পারবে না।