নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি, কূটনীতিকরা অসন্তুষ্ট ও চিন্তিত : জাফরউল্লাহ

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি, কূটনীতিকরা অসন্তুষ্ট ও চিন্তিত : জাফরউল্লাহ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরউল্লাহ বলেছেন, আমাদের উপর যে হামলা হচ্ছে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে এসব বিষয়ে আমরা তাদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরেছি। তারা এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না। যদিও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে চিন্তিত।

বুধবার গুলশানের এক অভিজাত হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সহিংসতা, মামলা, হামলা হচ্ছে তাতে বিদেশি কূটনীতিকরা সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না বলেও জানান ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটির প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ২০ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী টহল দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তারা বলেছিল ১৫ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে। এখন বলছে ২৪ ডিসেম্বর। আমরা দাবি করছি ২০ ডিসেম্বর নামানোর জন্য। তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে।

জাফরুল্লাহ আরো বলেন, নির্বাচনের জন্য আমরা আছি। আমি এর আগে কোন নির্বাচনে দেখিনি পুলিশ এভাবে হয়রানি করে। কমিশন অন্ধের ভূমিকা রাখছে। তিনি অপারগ।

বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে সোয়া তিনটা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারসহ, কানাডা, ডেনমার্ক, ব্রিটেন, চীন, তুরস্ক, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিন খান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জেবা আমিন খান বলেন, আমরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কূটনীতিকদের জানিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে দেশে যা হচ্ছে, সরকারি দল বিরোধী দলকে মাঠে দাঁড়াতে দিচ্ছে না এবং মামলা-হামলার বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। বিভিন্ন হামলার ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়েছে তাদের। ড. কামাল হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান কূটনীতিকদের বিফ্রিং করেছেন। তবে কূটনীতিকরা এ ব্যাপারে তাদের কোনো মতামত দেননি।

কতগুলো দেশের প্রতিনিধি ছিলেন, জানতে চাইলে জেবা আমিন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় সব দেশেরই প্রতিনিধি ছিলেন। ভারতীয় দূতাবাসের একজন প্রতিনিধিও ছিলেন।