২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮
মোহাম্মদ আলী : আজ ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। আমাদের প্রিয় এই দেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম গৌরব অর্জন ও অহঙ্কারের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে এ জাতির বীরত্বের আত্মপ্রকাশের দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের এদিনে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হয় নতুন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। তাই আজ আমাদের বিজয়ের গৌরবের বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। একই সঙ্গে আজ লাখো স্বজন হারানোর শোকে ব্যথাতুর-বিহ্বল হওয়ারও দিন। কিন্তু এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এদেশের শাশ্বত গণতন্ত্র আজ নিরুদ্দেশ। ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য ৪৮ বছর পরও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে নিজের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে টানা ১০ বছর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। কৃতজ্ঞ জাতি আজ দিনভর বর্ণাঢ্য আয়োজনে সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে একাত্তর সালে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। নতচিত্তে স্মরণ করবে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁয়ে পড়া শহীদদের। আজ ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি নেতৃবৃন্দ। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনে আসেনি, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয় চূড়ান্ত স্বাধীনতার যুদ্ধ। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করে। অথচ সাধারণ জনগণের ভোটের মূল্য দেয়নি পাকিস্তানি শাসক। ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানা শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। মিছিল মিটিং সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এরই মধ্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অসহায় নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতিকে কোনো দিক-নির্দেশনা না দিয়েই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের কাছে বন্দি হন। ঐ অবস্থায় জাতি যখন দিশেহারা ঠিক এমনি এক অমানিশার ঘোর অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকের মতো ঝলসে উঠলো প্রকৃতি ও মানুষ। বাতাসের প্রতিটি তরঙ্গে কান পেতে সবাই শুনলোÑ‘উই রিভোল্ট’। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চিফ হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। : স্বাধীনতার ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘প্রিয় সহযোদ্ধা ভাইয়েরা, আমি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চিফ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। আপনারা যে যা পারেন সামর্থ্য অনুযায়ী অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়–ন। আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে দেশছাড়া করতে হবে। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’ : দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। গণতন্ত্র রক্ষায় সাধারণ জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় শুরু হওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামের আজ বিজয়ের ৪৭তম বর্ষে এসে ভূলুন্ঠিত জনগণের ভোটের অধিকার। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কূটকৌশলে হরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয় অর্জন করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপলস পার্টি। কেন্দ্রে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে শুরু হয় ষড়যন্ত্রের পালা। নির্বাচনের পর পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। এমনকি ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেও মুলতবি করা হয়। পাকিস্তানের সামরিক ও ভুট্টো চক্রের ষড়যন্ত্র এবং হঠকারিতার কারণে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের মাঝে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা দ্রুত প্রবলতর হয়ে উঠতে থাকে। এজন্য মূলত দায়ী পাকিস্তানের সামরিক চক্র ও ভুট্টো। কারণ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে অবশেষে তারা সামরিক সমাধানের পথকেই বেছে নেয়। : ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানিরা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করতে চায়। সোনার বাংলাকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে হানাদার বাহিনী এদেশের জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে তারা ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, আরমানিটোলা ও পিলখানায় নির্মম গণহত্যা চালায়। অসহায় নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। ঘরে ঘরে ধর্ষণ ও লুটপাট চলে। বিপন্ন মানুষের আর্তচিৎকারে সেদিন আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলেও হানাদার বাহিনীর হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। মুহুর্মুহু গোলাবারুদের বিস্ফোরণে রাজধানী ঢাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকা ত্যাগের পূর্বে তিনি সেনাবাহিনীকে গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে যান। ঢাকা ত্যাগের আগে দিনের বেলায় রংপুর ও সৈয়দপুরে বেশ ক’টি জায়গায় স্বাধীনতাকামী ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে বিলম্ব হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হত্যাকান্ডকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন। : বিবৃতিতে শেখ মুজিব বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি এবং রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ সদিচ্ছা দেখিয়েছি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও তার উপদেষ্টারা বিষয়টির রাজনৈতিক সমাধান চাইলে তাদের সেদিকেই যেতে হবে। তিনি দেশের বিভিন্নস্থানে নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২৭ মার্চ দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেন। ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতিকে কোনো দিক-নির্দেশনা না দিয়েই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেখ মুজিবকে করাচিতে নিয়ে যায়। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালায়। পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম এই গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত। এ সময় চির আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতার লাল সূর্যটি যখন নির্যাতন ও দুঃশাসনের কালো মেঘের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছিল ঠিক সেই সময় জাতির ভাগ্য অনিশ্চয়তায় মধ্যে ঠেলে দিয়ে প্রলয় আতঙ্কে আতংকিত হয়ে এ জাতির তথাকথিত রাজনীতিবিদ সিংহ শাবকরা অনেকেই আত্মগোপন করেছিলেন। তাদের কেউ যান বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে গাঁয়ের বাড়িতে, কেউ যান ওপারে। মুহূর্তের মধ্যেই নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে জনগণ। নিজের বাঁচার পথ নিজেকেই বেছে নিতে হয়। নেতৃত্বহীন মানুষ সামনে এগিয়ে চলে। পেছনে পড়ে থাকে তথাকথিত রাজনীতিবিদদের পরিচ্ছন্ন পোশাক। অসীম সাহস, সুগভীর দেশপ্রেমের প্রচন্ড বাতাসে কালো মেঘ সরিয়ে জন্ম-জন্মান্তরের প্রত্যাশিত স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে (আজকের স্বাধীনতার সোল এজেন্ট বলে দাবিদার গোষ্ঠী) ব্যর্থ হলে জাতি পুনরায় অনাদিকালের জন্য পরাধীনতার নাগপাশে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা পড়ার উপক্রম হয়। এমনি এক অনিশ্চয়তা ও ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে ৫৫,৫৯৮ বর্গমাইলের বনিআদমেরা যখন বাকরুদ্ধ, শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচবে নাকি জীবন দিয়ে প্রতিরোধ করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আশা দেয়ার, ভরসা দেয়ার, সান্ত¡Íনা দেয়ার যখন আর কেউ এগিয়ে আসছে না, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঠিক এমনি এক অমানিশার ঘোর অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকের মতো ঝলসে উঠলো প্রকৃতি ও মানুষ। বাতাসের প্রতিটি তরঙ্গে কান পেতে সবাই শুনলোÑ‘উই রিভোল্ট’। প্রতিরোধের মশাল জ্বলে ওঠে চট্টগ্রামের ষোলশহরের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের প্রাণপ্রিয় নেতার ডাকে। ৩৫ বছরের এক মেজর নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করেন বিদ্রোহ। এটিই স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম বিদ্রোহ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চিফ হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমান তাঁর এই স্বাধীনতার ঘোষণা বিশ্ববাসীর কাছে জানিয়ে দেয়ার জন্য ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যান। বেতার কেন্দ্রের কর্মীরা মেজর জিয়াকে পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। বেতার কর্মীরা বারবার ঘোষণা করছিলেন আর পনের মিনিট পরে মেজর জিয়া ভাষণ দেবেন। কিন্তু পনের মিনিট পার হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে মেজর জিয়া মাত্র তিনটি লাইন লিখতে পেরেছিলেন। কারণ তাকে ভাবতে হচ্ছিল শব্দচয়ন, বক্তব্য পেশ প্রভৃতি নিয়ে। প্রায় দেড় ঘন্টা পর তিনি তৈরি করেন সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি। নিজেই সেটা তিনি বাংলা এবং ইংরেজিতে পাঠ করেন। এই একটি কণ্ঠের ঘোষণায় গোটা দেশ উঠে দাঁড়ায়। মানুষ হাতে তুলে নেয় অস্ত্র। স্বাধীনতার মন্ত্রে জ্বলে ওঠার সময় সেই কণ্ঠ গর্জে ওঠে। সেই কণ্ঠ স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল সৃষ্টি করার মতো মানুষের চেতনায় যুদ্ধ করার অমিত সাহস জোগায়। শত্রুর বিরুদ্ধে তৈরি করে ক্ষুব্ধ মানুষের অগ্নিবলয়। সেই সিংগা ফুকানো কণ্ঠের ঐতিহাসিক ঘোষণা মানুষের রক্তে বিদ্রোহের বান ডেকে দেয়। ইতিহাসের সেই যুগ বদলে দেয়ার ঘোষণার মহানায়ক জিয়াউর রহমান। সবাই বুঝতে পারল চুপসে গেলে চলবে না, ঝলসে উঠতে হবে। দিকভ্রান্ত জাতি খুঁজে পায় পথ। ফিরে পায় আত্মবিশ্বাস। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেই সেদিন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয় এবং তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে যান, গঠন করেন অস্থায়ী সরকার। : এদিকে বাংলাদেশে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে চলতে থাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ। জলে-স্থলে-আকাশে চলতে থাকে তীব্র প্রতিরোধ। এরই মধ্যে ভারতের প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনীর জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সর্বপ্রকার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অন্য কথায়, ততদিনে পাক হানাদার বাহিনী পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক আক্রমণের ফলে তাদের মনোবলও ভেঙে পড়ে। এ অবস্থায় দিল্লিস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ব্যাপারে। ১৬ ডিসেম্ব^র আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করে ভারত আল্টিমেটাম দেয়। এবার সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। মাত্র ১৩ দিনের যুদ্ধে পাকবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে। অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু প্রায় ৯ মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা যখন পাকিস্তানি বাহিনীকে কোণঠাসা করে একের পর এক এলাকা মুক্ত করছিল, যখন পাক হানাদার বাহিনী গ্রাম ছেড়ে মূল শহরগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল তখন ভারত ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করে। মাত্র ১৩ দিন যুদ্ধ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সব কৃতিত্ব ভারত নিজের বলে দাবি করার অপচেষ্টা চালায়। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে, সম্ভ্রমহারা দশ লাখ মা-বোন-জায়ার ক্রন্দনধোঁয়ায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরের যে রাঙা আলোটি স্পর্শ করেছিল ভূমি, দেনদরবার নয়, কারও দয়ার দানে নয়, সাগর-সমান রক্তের দামে বাংলাদেশ ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা, রক্ত-সাগর পেরিয়ে গৌরবময় এই বিজয়ের সূচনা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই। : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাণীতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশবাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাদের অব্যাহত সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে এ দিনে তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সেসব অকুতোভয় বীর শহীদদের কথা, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন মাতৃভূমি পেয়েছি। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। : ‘১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের এদিনে আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হই। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে অর্জন করি স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা আত্মদান করেছেন, সেসব বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রিয় স্বদেশকে স্বাধীন করতে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। : ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আমাদের শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন। গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম। সে লক্ষ্য পূরণে আমরা আজও কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আপোসহীন নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাঁর মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিকল্প নেই। বিজয়ের এ দিনে আমি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।’ : মহান বিজয় দিবসে বিএনপির কর্মসূচি : ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে বিজয় দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলা ৩টায় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। : ১৬ ডিসেম্বর ভোরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফুল দেবেন তারা। এরপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাজারে ফুলের মালা দান ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। : বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয় আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়গুলোতেও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D