২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৮
মনোনয়ন ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর, ও ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণা এবং জাতীর উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার ভাষণ দিচ্ছেন।
জাতীর উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার দেয়া ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত করছে। আরটিএনএনের ফেসবুক পেইজেও ভাষণটি দেখতে পারেন।
এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ তফসিল ঘোষণা ও সিইসির ভাষণ দেয়ার তথ্যটি জানানো হয়।
এছাড়া বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, ৮ নভেম্বরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা এর আগেও সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ৮ নভেম্বর তফসিল দিয়ে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল আসলে কী?
বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে এলো। ২৮শে জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন অর্থাৎ নির্বাচন কত তারিখ হবে সেটি ঘোষণা। কিন্তু তফসিল মানে শুধুই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নয়। নির্বাচনের সাথে জড়িত খুঁটিনাটি আরও অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত জড়িত এই তফসিলের সাথে।
কি সেগুলো?
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ডঃ এম সাখাওয়াত হোসেন সেগুলো ব্যাখ্যা করছিলেন।
নির্বাচনের তফসিলে কী থাকে?
খুব সহজ ভাষায় এটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখের একটি আইনি ঘোষণা। নির্বাচন আয়োজন করার জন্য যেসব কাজকর্ম জড়িত রয়েছে তার সবকিছুর জন্যেও একটি সময় বেঁধে দেয়া হয়।
যেমন প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার মনোনয়নের কাগজ কত তারিখ জমা দেয়া শুরু করতে পারবেন সেটি ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নের কাগজ নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে বাছাই করবে, বাছাই প্রক্রিয়ায় যদি সেটি বাতিল হয়ে যায় তাহলে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ব্যক্তি কতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবে তার সময় বেঁধে দেয় কমিশন।
যারা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন তাদের তালিকা কবে নাগাদ ছাপানো হবে, নির্বাচনী প্রচারণা কবে থেকে শুরু করা যাবে আর কতদিন পর্যন্ত তা চালানো যাবে – সেটির উল্লেখ থাকে।
সাধারণত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ঘোষণার সাথে প্রচারণা শুরুর তারিখ সম্পর্কিত থাকে। নির্বাচন কয় তারিখ হবে, ক’টায় শুরু হবে আর ক’টা পর্যন্ত চলবে সেটির বিস্তারিত এবং ভোটের পর তার গণনা কিভাবে ও কোথায় হবে সেটিরও বৃত্তান্ত থাকে। এই পুরো বিষয়টিকেই নির্বাচনের তফসিল বলা হয়।
এসব সিদ্ধান্ত কারা নেয়?
কিছু বিষয় সংবিধানে একদম নিশ্চিত করে বলা আছে। তাই সেগুলো নিয়ে আদৌ কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারই দরকার হয়না। যেমন সংবিধানে বলা আছে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
অর্থ্যাৎ ২৮শে জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু এই ৯০ দিনের মধ্যে কবে নির্বাচনের তারিখ সেটি ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনারদের মধ্যে সেটি নিয়ে এবং নির্বাচনের তফসিলের অন্যান্য সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারপর বেশিরভাগ কমিশনার যে সিদ্ধান্ত দেয় সেটি গৃহীত হওয়ার কথা।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর কি বদল করা যায়?
নির্বাচন কমিশন চাইলে সংসদ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ঐ ৯০ দিনের মধ্যে দেয়া নির্বাচনের তারিখ বদলাতে পারে। যদি সেটি দরকার হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের সেই এখতিয়ার রয়েছে। সেক্ষেত্রে তফসিল সংশোধন করে দেয়া যায়।
এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য তারিখগুলো পরিবর্তন করে দিতে পারে কমিশন। ডঃ এম সাখাওয়াত হোসেন একটি নমুনা দিয়ে বলছিলেন, ২০০৮ সালে ডঃ এটিএম শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিলো।
কিন্তু বিএনপি তখনো নির্বাচনে আসবে কিনা সেনিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছিল। এরপর বিএনপির সাথে আলোচনার পর তাদের দাবির ভিত্তিতে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ২৯ ডিসেম্বর করা হয়েছিলো।
এবারও যে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট তৈরি হয়েছে সেই জাতিয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
২০০৬ সালে একবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সংকটের মুখে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেছিলো। কিন্তু নির্বাচনের তারিখটি রয়ে গিয়েছিলো। সেই তারিখ পরে বাতিল করেছিলো আদালত অন্য একটি দেশের তফসিলের নমুনা
সাধারণত বাংলাদেশের তফসিলে যেসব কার্যক্রম দেয়া থাকে তা করার জন্য সবমিলিয়ে পুরো সময়কাল ৪৫ দিন হয়ে থাকে। সেটাই সাধারণত বাংলাদেশের রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেনে তফসিলের সময়কাল হল সব মিলিয়ে ১৭ দিন।
সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৭ দিনের মধ্যে সেখানে নির্বাচন সহ তার আগের সবকিছু শেষ করতে হবে। সেখানে আইন করে স্থায়ী একটি তফসিল তৈরি করাই রয়েছে। আর সেখানে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করে না। সেটি করে থাকে স্থানীয় কাউন্সিল।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D