২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৮
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল ও কুমিল্লার তিন মামলার হাইকোর্ট জামিন শুনানি শেষ। আদেশ আগামীকাল সোমবার দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল ও কুমিল্লার মামলার জামিন শুনানি রবিবার দুপুর ২টায় শুরু হয়।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এ ঘোষণা দেন।
এর আগে কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। রবিবার (২৭ মে) এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেন আদালত। তাই কুমিল্লায় নাশকতার অপর মামলা এবং নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হলো আজ।
কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগের মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নড়াইলের মানহানির মামলায় করা জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেন বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় আদালত বলেন, আমরা আগামী রবিবার তিনটি মামলাতেই একসাথে শুনানি শেষে আদেশ দেবো।
ওই দিন (বৃহস্পতিবার) আদালত থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিনও বলেছিলেন, আদালত তিনটি জামিন আবেদনই রবিবারের কার্যতালিকায় আদেশের জন্য রাখবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনানি তো হবেই। অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির প্রয়োজন না থাকলেও তো শুনানি করেন।
অন্য দিকে একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, বাসে অগ্নিসংযোগের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আরো দুইটি মামলায় করা জামিন আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। একটি নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং অপরটি মানহানির মামলা যে মামলায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনটি মামলা আগামী রবিবার অর্থাৎ আজ কার্যতালিকায় থাকবে। অন্য মামলাগুলোর ব্যাপারে বক্তব্য শুনে আদালত আদেশ দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সবগুলো মামলার আদেশ আদালত একসাথে দেবেন। দুইটি মামলার শুনানি তো হয়নি। সে কারণে শুনানি করে তারপর আদেশ দেবেন।
গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করেন। এখন কুমিল্লার নাশকতার মামলা ও নড়াইলে মানহানির মামলায় শুনানি শেষ হলে আদালত জামিন বিষয়ে আদেশ দেবেন। এ ছাড়া ২৮ মে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে মানহানি এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে করা দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টে অন্য একটি বেঞ্চে শুনানি হবে।
গত ২২ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে জামিন আবেদন দায়ের করার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ দুই মামলার শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
কুমিল্লার মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।
নড়াইলে মানহানি মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে অর্থাৎ গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D