ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮

ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের অনেকগুলো বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (শুক্রবার প্রথম প্রহর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় ট্রেনের ১১টির বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির কয়েকশ’ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন আরটিএনএনকে বলেন, ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে।

ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান
ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে তার কিছু হয়নি। তিনি নিরাপদে ঢাকায় ফিরেছেন। মৌলভীবাজারের সাতগাঁও রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশেকুল হক বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান উপবন এক্সপ্রেসের একটি কামরায় ছিলেন। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত আসেন। পরে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

সাতগাঁও স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী নিজের প্রাইভেটকারের চালককে ডেকে পাঠান। পুলিশ প্রতিমন্ত্রীকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মিরপুর এলাকায় নিয়ে তুলে দেয় এবং শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত এগিয়ে দেয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত ইউএনও।

রেলওয়ের সিলেট বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান সকালে বলেন, ‘গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে সাঁতগাও রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রমের পর ট্রেনের পুলিং রড ভেঙে ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বগিগুলো রেলসড়কের পাথরে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় রেললাইন দুমরে-মুছড়ে স্লিপারগুলো ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মুজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় কুলাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেনটি উদ্ধারকাজ শুরু করে। যেভাবে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে বেশ কিছু সময় লাগবে’। তবে কী পরিমাণ সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে না বললেও তিনি ধারণা দেন, ‘হয়তো বিকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’

উপবন ট্রেনের যাত্রী আব্দুল্লাহ মাহমুদ জানান, হঠাৎ করে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে বগি লাইনচ্যুত হয় এবং দুলতে থাকে। এ সময় যাত্রীদের চিৎকারে এক ভীতিকর পরিস্থিতির অবতারণা হয়। স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতা করেন।

ট্রেনের আরেক যাত্রী আতিকুর রহমান বলেন, রাত ১টার দিকে বিকট শব্দ করতে করতে ট্রেন লাইনচ্যুত হতে থাকে। এ সময় এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে ট্রেন স্বল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায় এবং বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট