২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশটিতে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে আলোচনার কোন প্রয়োজন তিনি দেখছেন না।
তিনি মনে করেন, বিএনপি তার নিজের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, কাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেছেন আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে তিনি যেন কথা বলেন। খবর বিবিসির
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে অপমানিত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ফোন করেছিলাম। তারপর যে ঝাড়িটা খেলাম, ঐরকম আর অপমানিত হবার ইচ্ছা নাই। যাদের মধ্যে এতটুকু ভদ্রতা জ্ঞান নাই, তাদের সাথে কথা বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর স্বান্ত্বনা দিতে এবং শোক প্রকাশ করতে তিনি গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি এক বাসায় গেলে যদি আপনার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়, দরজায় তালা দিয়ে দেয়, আপনি কি যাবেন? তাহলে আমার উপর কেন এতো জুলুম করেন আপনারা?
বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু আছে – একথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কিংবা না করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত। এখানে সরকারের কিছু বলার প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে, এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এবার নাকে খত দিয়ে ইলেকশনে আসবে।
আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে যে কোনো সময়ই নির্বাচন হতে পারে, কিন্তু আমরা এমন কোনো দৈন্যদশায় বা সমস্যায় পড়িনি যে এক্ষণি নির্বাচন দিতে হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন
শেখ হাসিনা বলেন তার সাম্প্রতিক কাম্বোডিয়া সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আসিয়ান জোটভূক্ত দেশগুলো যাতে এই ইস্যুতে সমর্থন দেয় সে ব্যাপারে কাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে আপনারা জানেন মায়ানমার থেকে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর সকলেই কিন্তু মায়ানমারের ওপর চাপ দিচ্ছে। মোটামুটি একটা সমর্থন আমরা পাচ্ছি, বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সকলের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছে এবং মায়ানমারের সঙ্গে যে সমঝোতা ব্যবস্থায় স্বাক্ষর করা হয়েছে তার আওতায় গঠিত যৌথ কমিটির মাধ্যমেই শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে । তিনি বলেন এই লক্ষ্যে এখন কাজ চলছে।
আমি চাই প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে একটা সদ্ভাব থাকুক। কিন্তু সেখানে যে ঘটনাগুলি ঘটেছে তা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মানবিক কারণে এদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু মিয়ানমারের নাগরিকরা অবশ্যই তাদের দেশে ফিরে যাবে এটাই আমাদের আশা, বলেন শেখ হাসিনা।
জেরুজালেমকে স্বীকৃতি
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবার যে ঘোষণা ডোনাল ট্রাম্প দিয়েছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই ঘোষণা ইসলামী দুনিয়ায় কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, এখানে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জাতিসংঘের রেসলিউশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কেউই মেনে নেবে না।
আমরা মনে করি ফিলিস্তিনিদের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবার একটা বিষয় এখানে রয়েছে।
তিনি বলেন, একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সারা বিশ্বে একটা অশান্তি সৃষ্টি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যে শান্তি প্রক্রিয়া আমেরিকাই শুরু করেছিল এখন এই ঘোষণার মাধ্যমে তাকে অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়াটা কখনই কাম্য নয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D