২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৭
দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীই আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আর সেভাবেই তারা নিজেদেরকে প্রস্তুত করছেন। তবে পরস্পরের বক্তব্যকে নাকচ করে দিচ্ছে দু’পক্ষই। সেইসঙ্গে দু’পক্ষে একধরনের শঙ্কাও কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। সবমিলেই দু’পক্ষই আশা-নিরাশার দোলাচলে রয়েছে। এরপরও এ নিয়ে চলছে রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা যাচ্ছে, একদিকে সু্ষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে, অন্যদিকে ২০০১ ধারায় ভোটবিপ্লবের শঙ্কায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপরও বিএনপি আশা করছে, অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আগামী একাদশ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করবে তারা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, গত নয় বছরে তারা যে ধরনের উন্নয়ন করেছে তাতে জনগণই ভোট দিয়ে তাদেরকে ফের ক্ষমতায় আনবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আরো যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে আরেক টার্ম ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। কারণ, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে লুটপাট করে, দেশের উন্নয়ন করে না।’
সম্প্রতি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার ক্ষমতা হারালে নেতাকর্মীদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। তাই সময় থাকতে অবৈধভাবে উপার্জন করা অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করুন।’
তিনি এও বলেন, ‘অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কী করবেন, যদি দল ক্ষমতায় না থাকে? দলকে ক্ষমতায় রাখতে এবং আগামী নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগ আবারো জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, সে জন্য এসব অর্থ দেশের জন্য, জনগণের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করুন।’
নেতাদের ‘খাই খাই ভাব’ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খাই খাই ভাব’ কর্মীদের মধ্যে নেই। কিন্তু নেতাদের মধ্যে আছে। নেতাদের এই ‘খাই খাই ভাব’ পরিহার করতে হবে।
এছাড়া ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমি মন্ত্রী। আমার এপিএস, ভাই এবং আত্মীয়স্বজন যদি অপকর্ম করে, তবে আমি কি ভালো মানুষ? তাই আমি বলব, হয় এদের সংশোধন করুন, নাহয় এদের পরিহার করুন। গুটি কয়েক মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি কলুষিত হতে পারে না।’ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষতি করবেন না। খারাপ লোককে দলে ভেড়াবেন না। দল ভারী করে কোনো লাভ নেই। পদে না থাকলে কেউ সালাম দেবে না। ক্ষমতায় না থাকলে দাপট চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।’
এছাড়া মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও ক্ষমতা হারারোর শঙ্কাও কাজ করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যদি আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা হারায় তাহলে ওই রাতেই অন্তত ৫ লাখ নেতাকর্মীর লাশ পড়বে। তিনি বলেন বড় বড় নেতারা, যাদের পাসপোর্ট-ভিসা আছে, টাকা আছে তারা হয়তো বিদেশে পালিয়ে যেতে পারবে। বাকি নেতাকর্মীদের লাশ হতে হবে।’
অন্যদিকে অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আগামী একাদশ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করার ব্যাপারে খুবই ‘আত্মবিশাসী’ বিএনপি। এ বিষয়ে নেতানেত্রীদের বক্তব্যেই তা ফুটে উঠছে।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় যেতে দেয়া হবে না। এবার নির্বাচন হবে সকলের অংশগ্রহণে। হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। বেগম জিয়া বলেন, সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করছিলো অতীতের মত একতরফা নির্বাচন করে আবার ক্ষমাতায় যাবে। না, তাদেরকে আর সে সুযোগ দেয়া হবে না। অনেক সুযোগ পেয়েছে, দেশটাকে উন্নয়নের নাম করে লুটেপুটে খাচ্ছে তারা।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে এও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা ভাবছে আগামী নির্বাচনে চুরি করে ক্ষমতায় বসবে। না, তাদেরকে এবার চুরি করে ক্ষমতায় বসতে দেবে না জনগণ। এবার আওয়ামী লীগকে একতরফা ইলেকশন করতে দেয়া হবে না।
এছাড়া গত মঙ্গলবার লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগকালে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘গ্রেপ্তারে আমি ভয় পাইনা, সরকারের সাহস থাকলে গ্রেপ্তার করুক আর হাসিনার অধীনে দেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’
নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, সামনে কঠিন সময়। দুর্বার আন্দলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন’।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আরো এক টার্ম ক্ষমতায় থাকার আশাবাদ একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন বিএনিপর সিনিয়র নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের আরো এক টার্ম ক্ষমতায় থাকার ‘আশাবাদ’ আশা হিসেবেই থাকবে। এ রকম আশা তারা করতেই পারেন। তবে সেই আশা আর বাস্তবায়ন হবে না।
বিএনপি নেতারা বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষধর্মী সরকারের অধীনে একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আরো ‘এক টার্ম’ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেবে না জনগণ। আমাদের কাছে যে জরিপ আছে, তাতে দেখা যায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫টির বেশি আসন পায় না।’ তারা মনে করেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভের হাওয়া এখন ধানের শীষের অনুকূলে বইছে। ‘অন্যথা’ না হলে কোনোভাবেই এই জোয়ারকে ভিন্নপথে নেয়া যাবে না।
শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির ভয়ে সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি যেন আগামী নির্বাচনে আসতে না পারে, সে জন্য সরকার এখন থেকেই নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। কারণ, তারা জানে বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে এবং দলটি নির্বাচনে ২৫ আসনও পাবে না।
তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ব্যাপারটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা পুরোপুরিভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা খুব ভালো করে জানে, যদি সহায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন দেয়, তাহলে তারা (আওয়ামী লীগ) ২৫টির বেশি আসন পাবে না।
বিএনপির মহাসচিব এও বলেন বলেন,‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, সে জন্য সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে এক অনুষ্ঠানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই সরকার মানুষের জীবনকে দুঃসহ ও অসহনীয় করে তুলেছে। তাদের সরিয়ে দেশের মানুষ অতীতে যারা আস্থা অর্জন করেছিল সেই বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে চায়। দেখতে চায় খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
বিএনপি ওই জরিপের প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে পুরোদমে নির্বাচনমুখী কাজ শুরু করে। তারা তাদের জেলা কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি আসনের বিপরীতে ৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ধরে ৯শ’ প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে। জনগণের বিপদের সময় তাদের পাশে থেকে কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক চিঠির মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দিতে জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়। মাঠ অনুকুলে বিবেচনা না করে ‘অযথা আন্দোলন-সংগ্রামের’ জন্য কোনো কর্মসূচি না দেয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।
একই সঙ্গে দলের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে যা যা করার তাই করবে দলটি। তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বিএনপি ২০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল। ভিশন-২০৩০ দেয়া হয়েছে। এছাড়া খুব শিগগিরই খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারে রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেন। এই রূপরেখায় বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় নির্বাচনকালীন সরকারের বেশ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব থাকবে। এই বিকল্প কাঠামোর পাশাপাশি এসব নিয়ে সংলাপে বসে সমঝোতায় পৌঁছার আহ্বানও থাকবে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি।
অন্যদিকে, সম্প্রতি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
এতে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি-শিল্প ও শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ সব সেক্টরে আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি জাতির বিভক্তি ও প্রতিহিংসা নিরসনে জাতি গঠনে উন্নত গণতান্ত্রিক পথে দেশকে এগিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টেও। তিনি এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন।
গত ১০ মে সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে মহাপরিকল্পনায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সহনশীল গণতন্ত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল আজ সে রাষ্ট্রের মালিকানা তাদের হাতে নেই। তাই দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি।
‘বিএনপি এমন এক উদার গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাস করে যেখানে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে। যত সংখ্যালঘিষ্ঠই হোক না কেন, কোনো মত ও বিশ্বাসকে অমর্যাদা না করার নীতিতে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
বেগম জিয়া বলেন, ‘আমরা ‘ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে’ বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল নির্বাচনের দিন বা ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়না বিএনপি। নিত্যদিনের জন-আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে স¤পৃক্ত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবো আমরা।’
বেগম জিয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জোর দিয়েই বলেন, ‘শরতের আকাশে সাতটি রঙের বিচিত্র প্রভা নিয়ে রঙধনু যেভাবে মনোরম সৌন্দর্যের বিচ্ছূরণ ঘটায়, আমরা চাই সকল মত ও পথকে নিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন ও পরিপুষ্ট করতে যে সংস্কৃতি বাংলাদেশকে একটি Rain-Bow Nation এ (রঙধনু-জাতিতে) পরিণত করবে।’
এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
জাতীয় রাজনীতিতে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটও এ ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক মহলেও রয়েছে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা।এবার আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অংশ নিলেও তাদের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য।
গত রবিবার মির্জা ফখরুলের ১৭ সদস্যের বিএনপির প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিতে গেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে গোটা জাতি। কেননা, দলটি অনেক বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। তাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তিনি এও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা গঠন ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে বিএনপি।
অন্যদিকে বুধবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে দলের ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে নির্বাচন কমিশনের কাছে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি চালুসহ ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরে।
প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিতে গেলে প্রধান নির্বাচন কমিশন একই প্রক্রিয়ায় তাদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে আর তাদের সরকারের আমলেই নির্বাচন কমিশনের অধিকাংশ আইন কানুন করা তাই তাদের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরামর্শ চায় নির্বাচন কমিশন।
সিইসি বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং বেশ কয়েকজনের রায়ও কার্যকর করেছে। আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নযনের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তির প্রসার অবকাঠানোর উন্নয়ন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে আজ ধরিত্রীর বিশ্ব মুকুট শেখ হাসিনার মাথায়।প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়ে বা উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার মুখে বিএনপির প্রশংসার প্রেক্ষিতের সাংবাদিকের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা বলেছেন কি না সেটা নিশ্চিত হতে হবে,বলে থাকলে সেটি বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশল হতে পারে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জিয়াউর রহমান নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, তা কোনো সংবাদ সম্মেলনে বলেননি। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভেতরে বলেছেন। ফলে তিনি কী বলেছেন তা নিশ্চিত হতে হবে। আগামী ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক আছে। সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ হবে।
এরপর বুধবার সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির ভূয়সী প্রশংসার ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি- এটা বলতে চাই না। যদি কোনো ব্যাখ্যা দিতে হয় তা নির্বাচন কমিশন দেবে।
তিনি বলেন, তবে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিবদের প্রত্যেকের যে বক্তব্য এটি আমরা মনে করি ইউজফুল পজেটিভ ডায়ালগ।’
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা’ ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়ে দলটির সঙ্গে ইসির নির্বাচনী সংলাপে সিইসি যে প্রশংসা করেছেন একে ‘রাজনৈতিক ইতিবাচকতা’ হিসেবেই দেখছেন একই সঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আজকের সংলাপ ‘কনস্ট্রাকটিভ’ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কমিশনে পেশকৃত দলের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইসির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা ‘ইন ওয়ান ভয়েস’-এ প্রত্যেকে বলেছেন, আমাদের এই প্রস্তাবগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব বলে তাদের কাছে মনে হয়নি। কমিশন বলেছে- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও এক্সেপ্টেবল নির্বাচনের স্বার্থে যে প্রস্তাবগুলো দেয়া প্রয়োজন আপনাদের কাছ থেকে তা পেয়েছি। এগুলো অত্যন্ত পজেটিভ প্রস্তাব।’
অন্যদিকে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, ইভিএম পদ্ধতি চালু না করাসহ ২০ দফা দাবি পেশ করে। বিএনপি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। ফলে আমরা কিছুটা আশাবাদি।
এদিকে সংলাপে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সংলাপে নির্বাচন কমিশনের কাছে দেয়া প্রস্তাবনাসমূহ পরস্পরে প্রত্যখ্যান করেছে।
বুধবার বিকেলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে দেয়া আওয়ামী লীগের ১১ দফা প্রস্তাবই সুষ্ঠু নির্বাচনের বড় অন্তরায়।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভাষা বুঝতে পারছে না। জনগণ পরিবর্তন চায়, ভোটের অধিকার চায়। দলীয় সরকারের অধীনে জনগণ ভোটের অধিকার পাবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ফের জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অন্যদিকে সংবিধানের বাহিরে অবাস্তব অবান্তর প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত না করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে গ্রহণ করে সংলাপে অংশগ্রহণ করেছে ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা নিয়েও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছিল। বিএনপি নির্বাচন কমিশনে সংলাপে অংশগ্রহণ করায় সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’
এছাড়া সরকারী জোটের শরীক দল জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচনি রোডব্লক করতেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সংবিধান পরিপন্থী ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।নির্বাচন বানচাল করাই তাদের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন বিএনপির অনেকগুলো অযৌক্তিক-অস্বাভাবিক প্রস্তাবের পাহাড়। বেশির ভাগ প্রস্তাব আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) পরিপন্থী ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে।’ সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিতে বিএনপির প্রস্তাব অযৌক্তিক প্রস্তাব।
ফলে চলমান সংলাপ নিয়ে জনমনেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আসলে কী নির্বাচন কমিশনের এই সংলাপ সফল হবে? তারা কী পারবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে? এছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মুখে প্রধান দুই দলের ভূয়সী প্রশংসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই প্রশংসার নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়েও ভাবনা শুরু হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কেএম নুরুল হুদার এটা কৌশল না কুট কৌশল তা দেখতে জাতিকে একাদশ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সত্যিই যদি তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করেও একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারেন তাহলে তার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যথা, গোটা জাতিকে এর জন্য মাশুল গুনতে হবে আরো বহুকাল। শুধু তাই নয়, নিজেও নিক্ষিপ্ত হবেন জনমনের ঘৃর্ণার পাত্রে। এখন দেখার বিষয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সাহসী ভূমিকা নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারেন কিনা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D