সু চি’র ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব

প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭

সু চি’র ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব

নাইপেদো : রোহিঙ্গা ইস্যুতে জনগণের উদ্দেশে মঙ্গলবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও গণতন্ত্রের মূর্তপ্রতীক খ্যাত নেত্রী অং সান সু চি। তার এ ভাষণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব। এ ভাষণই রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ বলে মনে করছেন জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিশ্বনেতারা।

গত ২৫ আগস্ট দেশটির রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এর জের ধরে সেখানে শুরু হয় সেনা অভিযান। অভিযানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে মেতে উঠেছে সেনা সদস্য ও বৌদ্ধ সিভিলিয়ানরা। প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম।

চীন এবং রাশিয়া রাখাইন রাজ্যে অভিযান মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক এবং ইরানসসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে অভিযান বন্ধ করতে সু চিকে সরব হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তিনি এ সহিংসতাকে জাতিগত নির্মূলের সঙ্গে তুলনা করে তা বন্ধ করার দাবি জানান। বৃহস্পতিবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন সহিংসতার জন্য মায়ানমারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন বলে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নিপীড়ন চলছে, তাকে জাতিগত নিধনের উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হুসেইন রাখাইন রাজ্যে এ ভয়ানক সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, সেনা অভিযান বন্ধ করতে অং সান সু চি’র হাতেই শেষ সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সু চি এখনই পদক্ষেপ না নিলে রোহিঙ্গা সঙ্কট আরো ভয়ংকর রূপ নেবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওই ভাষণই রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ। তিনি যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না করেন, তাহলে এই সঙ্কটট আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মায়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। এটা স্পষ্ট যে মায়ানমারে এখনো সেনাবাহিনীই সবার ওপরে। কিন্তু রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা হয়েছে, তার জন্য তারা চাপে থাকবে।

ফলে জনগণের উদ্দেশে মঙ্গলবার সু চি যে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। সবাই আশা করছেন,  সু চি তার ভাষণে তিন সপ্তাহব্যাপী রাখাইন রাজ্যে চলা সহিংস ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ক্ষমা চাইবেন। সেই সঙ্গে চলমান রোহিঙ্গা নিধন অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অন্যথা, এর জন্য যে সু চি সরকার ও মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে কঠোর মাশুল দিতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয় সু চি কোন দিকে হাঁটেন এবং মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কী বলেন।