রোহিঙ্গা সমস্যায় প্রমাণিত হলো বিশ্বে আমাদের ভাল বন্ধু নেই

প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭

রোহিঙ্গা সমস্যায় প্রমাণিত হলো বিশ্বে আমাদের ভাল বন্ধু নেই

আ.ম.ন জামান চৌধুরী : রোহিঙ্গাদের নিয়ে লিখা গুলো গণ মানুষের মাঝে আবেদন সৃষ্টি করেনা । তার কারণ হলো রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য । ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বভাব মানুষের মনে বিরুপ ধারণার জন্ম দিয়েছে । এত লাঞ্চনা -গঞ্জনা নির্যাতন -নিপীড়ন অত্যাচারিত হয়ে ভিটা মাটি ছেড়ে আসার পর ও তাদের মন মানসিকতায় দুঃখ যন্ত্রনা বোধের ছায়া চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছেনা । এদের অপরাধ প্রবনতায় কোন পরিবর্তন আসেনি । শরনার্থী ক্যাম্প ছেড়ে পালাবার পথ খুৃঁজছে প্রতিনিয়ত । পালাচ্ছে । এরা মূল জনস্রোতে মিশে গেলে আমাদের ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে অতিরিক্ত এক বিশাল সংখ্যক অপরাধ প্রবণ জনগোষ্টি আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক সুদুর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেহেতু মায়ানমারের সঙ্গে বিষয়টি সহসা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাই এই বিপুল সংখ্যক প্রায় দশ লক্ষ মানুষের খাওয়া -বাসস্থান আামাদের অর্থনীতি এবং পরিবেশে বিশাল সমস্যার সৃষ্টি করবে বিশেষ করে স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যা ঝুঁকি বাড়বে । খুব দ্রুত এই অশিক্ষত জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যারোধক সচেতনতা তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে । এদেরকে সীমানা নির্দিষ্ট করে বেশ কয়েকটি স্তরে পাহারায় রাখতে হবে । জাতিগত এবং জন্মগত ভাবে রোহিঙ্গারা ডেঞ্জারাস প্রকৃতির এহেন কোন কাজ নেই যে তারা করতে পারেনা । নারী পুরুষ দু’ইয়ের এক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য নেই । এই বিশাল বোঝা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে লবিং বৃদ্ধি করতে হবে । কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বের করা ছাড়া অন্য কোন পথে সামরিক জান্তাদের সঙ্গে কোন জবাব দেয়ার চেষ্টা না করাই উত্তম। প্রমাণিত হয়েছে বিশ্বে আমাদের প্রকৃতপক্ষে কোন বন্ধু নেই।। মায়ানমারের আকাশ সীমা লঙ্ঘণের আস্ফালন তাদের ধৃষ্টতার জবাব দিতে গিয়ে একদল অনাহুত মানুষের জন্য আনারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারিনা । দক্ষিন এশিয়ায় আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ভৌগলিক অবস্থান নিকট প্রতিবেশিদের ঈর্ষা কাতর করে তোলেছে । অতএব একটি কৌশলগত দক্ষ কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমস্যা, আস্ফালন- সীমা লঙ্ঘনের ধৃষ্টতাকে মোকাবেলা করা হবে বুদ্ধিদীপ্ত সফলতা । সরকার সে পথে হাঁটছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন তাঁর ভাষণে এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতকারে রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকি সর্বাদিক গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করি । গত কয়েক বছর আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিশ্বে আমাদের বন্ধু তৈরীতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে । বিশ্বব্যাপী আমাদের কুটনৈতিক মিশন গুলো বেতন ভাতা আরাম আয়েশের জিন্দেগী যাপন ছাড়া জাতি রাষ্ট্রের জন্য কোন ভুমুকা বা অবদান রেখেছে বলে কোন প্রমাণ তো কোনদিন চোখে পড়েনি । কৃষক -শ্রমিক মেহনতি মানুষের শ্রমে ঘামে ভেজা অর্থে যাদের বেতন ভাতা হয় সেই আত্মত্যাগী মানুষ গুলোর জন্য মিশন গুলোর কোন ত্যাগই তো নেই কেবল মাত্র বিদেশের অত্যাধুনিক টয়লেটে মল মুত্র ত্যাগ ছাড়া । রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপকভাবে তোলে ধরার দায়িত্ব বাংলাদেশের দুতাবাস গুলোর । রাষ্ট্রদূতদের খুব কঠোর নির্দেশ দিয়ে বিশ্বজনমত বাংলাদেশের পক্ষে আনার কাজটি করতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হোক । একটি মানবিক বিপর্যয়ে দেশে দেশে জনমত সৃষ্টির বিকল্প নেই। সুচী এবং তার জান্তা সরকারের নির্মম বর্বতার চিত্রগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশ্ব আমাদের বন্ধু’র সংখ্যা বাড়াতে হবে ভারতের বন্ধুত্বে আটকে থাকলে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার আকাশ সীমা লঙ্ঘণ করার দৃশ্য ফ্যাল -ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না । আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সকল সম্পর্ক বজায় রেখে নতুন বন্ধু খোঁজা । যেমন মোদী আমাদের সঙ্গে ঘণ ঘণ ভিডিও কনফারেন্সের বন্ধুত্ব রেখে মায়ানমারে ছুটে যাওয়ার কৌশল আমাদের কে আয়ত্ব করতে হবে তা না হলে দেশ এগিয়ে যাবে বটে কিন্তু কুটনীতিতে পিছিয়ে পড়বেন,হয়ে পড়বেন বন্ধুহীন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট