|
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬
আবু রাইহান জাকারিয়া : নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বহুমাত্রিক লেখক সৈয়দা রাশিদা বারী তার লেখনীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজ করে চলেছেন। তার এই কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ শুধুমাত্র এই বছর (২০২৬ সালের ১১ মাসে) ৮টি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, একজন লেখকের লেখনী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। নিন্মে তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো।
৩রা নভেম্বর, ২০২৬ চিংড়ি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, কাটাবন মোড়, ঢাকায়, ‘মানব সম্পদ উন্নয়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, কবির কন্ঠে কবিতা পাঠ এবং মাদার তেরেসা সম্মাননা ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক, গীতিকার, এবং জাতীয় সচিত্র মাসিক স্বপ্নের দেশ পত্রিকার সম্পাদক- প্রকাশক সৈয়দা রাশিদা বারীকে একজন নারী উদ্যোক্তা, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নারীর আত্মনির্ভরশীলতায় বিশ্বাসী ও সাহিত্যের বিপুল ভা-ার অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ শতাধিক গ্রন্থের লেখককে মাদার তেরেসা আওয়ার্ড সার্টিফিকেট এবং মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
গত ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ কবি সংসদ বাংলাদেশ, ঢাকা, কেন্দ্রীয় কমিটির ২৮ বছর পুর্তির এক আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা কচিকাচার মেলা সেগুনবাগিচায়। সংগঠনের জন্ম উৎসব ২৮ বছর পূর্তি অমর ঐতিহ্যময় তথা সফল করতে শতাধিক গ্রন্থের লেখক, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং চলচিত্রের গীতিকার, কবি সৈয়দা রাশিদা বারীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করেন। ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
গত ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে নারী উদ্যোক্তা, নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী ও সাহিত্যের সার্বিক অংগনে একনিষ্ঠ অবদান রাখায় কথাশিল্পী সৈয়দা রাশিদা বারী বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। লেখালেখির মাধ্যমে সামাজিকভাবে অবহেলিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার, যাদের অধিকার ও সন্মান অন্য সবার মতো প্রাপ্ত হলেও অধিকার না দিয়ে বঞ্চিত করা হয়, তাদের কথা তুলে ধরেন। সমাজ যাদের দূর্বল মনে করে তারাই সামাজিকভাবে অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তিনি বাস্তবে এবং লেখালেখিতে তাদের পাশেই দাঁড়ান। তাদের নিয়েই কথা বলেন, এভাবে তার মানবিকতার পরিচয় মেলে।
এই গবেষককে সম্মানিত করা হয়েছে। মে, জুন, জুলাই, আগষ্ট ২০২৬, ৪ মাসের মধ্যে ৫টি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে ও সাহিত্য সংস্কৃতি- কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ৫টি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা, লেখিকা মহিয়সী মানবিক নারী।
২৪শে আগস্ট, ২০২৬ তিনি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন, স্থান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্য ভবনের সেমিনার হল, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল সংস্কৃতি মৈত্রী কল্যাণ সংঘর সেমিনার সম্পন্ন হলো। সম্মাননা পুরস্কার পেলেন, শিশু ও নারী বান্ধব গবেষক, কবি, সৈয়দা রাশিদা বারী। গত ২৫শে জুলাই, ২০২৬ রাজধানী ঢাকায় জমকালো এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরিবাগের সাংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে, এ মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উত্তোলন ও গীতিকবি ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্মরণে, কথা আবৃত্তি সংগীত ইত্যাদি পরিবেশিত হয়।
৫২’র ভাষা আন্দোলনে, ৭১’র স্বাধীনতা আন্দোলনে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা ছিলো আকাশছোঁয়া! যা নির্ণয়ের কোন উপায় নাই। সৈয়দা রাশিদা বারী শিশু ও নারীর নানান সমস্যা এবং এর সমাধানও তুলে ধরেন তার লেখায়। একজন নারী কর্মী, নারী উদ্যোক্তা, শিশু ও নারী গবেষক হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মারক সম্মাননা ২০২৬, ক্রেস্ট, মেডেল, প্রশংসাপত্র কবি সৈয়দা রাশিদা বারীকে দেওয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনাকালে তিনি বলেন, নারীরও দেশ এবং সমাজ সংসারে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা প্রয়োজন, শুধু স্বামীর উপরে নির্ভরশীল না হয়ে। তাই গ্রাম গঞ্জে কৃষিকাজ পশুপালন ইত্যাদি ছাড়াও শহরমুখি শিক্ষিত নারীরা সাংবাদিকতা ও লেখালেখি সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেও এই বিষয়ে এগিয়ে আসতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনিতেও নানাবিধ উন্নয়নে নারীর সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রেক্ষিতে নারীদের এগিয়ে যেতে তিনি আহ্বান জানান এবং জনগণের ভালোবাসার নতুন এ সরকার যেন নারীর সাংবাদিকতা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় সুদৃষ্টি দেন সে বিষয়ে আহবান জানান। বাংলাদেশের গর্ব আন্তর্জাতিক কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা শিল্পকলা একাডেমিতে গত ২৪শে জুলাই ২০২৬ একক সংগীত পরিবেশন করেন এবং সেই অর্থ সরকারের তহবিলেই জমা হয়। বিশেষ করে টিকিট বিক্রির টাকা, বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা হওয়ার কথা। এটাও কিন্তু গর্বিত নারীর সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের অর্থ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। সবসময়ই বহির্বিশ্বে নারীরা সাহিত্য সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজ দেশের প্রশংসা কুড়ান। এটাও দেশের অর্জন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পিছনে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ভূমিকা অপরিসীম।
গত ৮ই জুলাই, ২০২৬ বাংলা একাডেমিতে ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ প্রদান ও সদ্য প্রয়াত গুণীজন , কবি আল মুজাহিদী অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, কবি গোলাম মোস্তফার পুত্র চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমিক সৈয়দা সূরাইয়া বেগম মিনির অকাল প্রয়াণে এক স্মরনসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ।
বাংলা একাডেমির ড. এনামুল হক ভবনের কবি আল মাহমুদ কর্নারে জমকালো ও আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ প্রদান ও প্রয়াত গুণীজনদের স্মরণসভা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, গবেষক ও সাহিত্যিক সৈয়দা রাশিদা বারী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ৪ গুণীজনের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়, তাঁদের স্নেহ, প্রেরণা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহদানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের সান্নিধ্য তাঁর সাহিত্যজীবন ও গবেষণার পথে এক মূল্যবান প্রাপ্তি, যা তিনি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কবি সৈয়দা রাশিদা বারীর হাতে ‘কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক’ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। গবেষণা ও বাংলা ভাষা-সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থিত সুধীজন আন্তরিক অভিনন্দনের মাধ্যমে কবি গোলাম মোস্তফা স্মারক সম্মাননা সৈয়দা রাশিদা বারীর হাতে তুলে দেন।
এছাড়াও রাজধানীর কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা মিলনায়তনে গত ২৭ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে কবি সংসদ বাংলাদেশ আয়োজিত ১২তম জাতীয় কবি সম্মেলন-২০২৬। দেশের ৮টি বিভাগ ৬৪ জেলা থেকে আগত প্রায় ৩০০ কবির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সমকালীন সমাজ নিয়ে আলোচনা, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন নৃত্য এবং মেধা দীপ্তদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় সৃজনশীল লেখক এ যুগীয় নারী উন্নয়নের পথিকৃত চতুর্মুখী প্রতিভাধর গবেষক কবি সৈয়দা রাশিদা বারীকে নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একনিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় ও কাব্য চর্চায় ‘কবি ফররুখ আহমেদ’ সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়।
নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ভূমিকা শির্ষক বক্তব্য দেন পুরস্কারপ্রাপ্ত, নারী গবেষক, নারী আর্থসামাজিক উন্নয়নের উদ্যোক্তা লেখক কর্মী সৈয়দা রাশিদা বারী।
এছাড়া প্রধান অতিথি সংস্কৃতি মন্ত্রীর সম্মতি ক্রমে হওয়া আয়োজনকৃত অনুষ্ঠান থেকে পেলেন বহু কবিতা লেখার অর্জনে ‘মহাকবি’ উপাধি। এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯শে মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যকলা কেন্দ্রীয় সেমিনার হল, সেগুন বাগিচা, ঢাকা।
শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি গবেষণা সংগঠন ‘পুবের হাওয়া’র আয়োজিত সেমিনারে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে, এক জমকালো আনন্দ উৎসব ও মনোজ্ঞ আলোচনা সভায় পেলেন এ ‘মহাকবি’ উপাধিসহ মেডেল সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট। ‘মহাকবি’ উপাধি পেয়ে তিনি নিজে অলংকৃত হন, বাংলাদেশকে অলংকৃত করেন! যুগে যুগে নারীরা দেশ বিনির্মাণে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং নানান ভাবে ধন্য গর্বিত প্রশংসিত করে দেশের বুকে অবদান রাখেন। ভালো সন্তান উপহার দিয়েও অবদান রেখেছেন এবং দেশকে সমৃদ্ধ মহিমান্বিত করেন।
লেখক : ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D