|
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত ১৩ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার। এ বছর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন। পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডটিতে সর্বনিম্ন ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
গত বছর (২০২৫) সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ এবং ২০২০ সালে পাসের হার ছিল শতভাগ।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই বছর আগের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সবাইকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছিল। ফলে ওই দুই বছরের পাসের হার ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি।
এদিকে সিলেট বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭২ হাজার ৯৫৫ জন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৩১৯ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্র এবং ৪২ হাজার ৯৫৮ জন ছাত্রী।
ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৬ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪২ হাজার ৯৫৮ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২২ হাজার ৫০১ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। উত্তীর্ণের সংখ্যা ও পাসের হার দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগে ১৪ হাজার ৩৫৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৮ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৫৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২২ হাজার ৮৪৮ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৯১১ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ এবং মানবিক বিভাগে সর্বনিম্ন। সামগ্রিক ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাসের হারে অন্য দুই বিভাগের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D